সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র,
প্রায় ১৪০ কোটি দেশবাসীর
ভারতীয় সংবিধানের অন্যতম ভিত্তি হলো গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। আর এই নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার মূল মেকানিজম কী? গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দেশবাসীর সংবিধানিক অধিকার রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে সাফল্যের রসায়ন কোন পথে? আজ মঙ্গলবার সুইডেনে স্টকহোম কনফারেন্সে বিশ্বের দরবারে সে কথা তুলে ধরবেন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
অনাবাসী ভারতীয় বা বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের জন্য অনলাইন ভোটার রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম এবং ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশন অফ পোস্টাল ব্যালট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে কীভাবে দেশের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগে দেশের বাইরে থাকা নাগরিকদের সংযুক্ত করা যায় সে ব্যাপারেও বিশদে আলোচনা করবেন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
সুইডিশ বিদেশ মন্ত্রক, সুইডিশ নির্বাচন কর্তৃপক্ষ এবং অস্ট্রেলিয়ান নির্বাচন কমিশনের যৌথ উদ্যোগে ৫০ টি দেশের ১০০ প্রতিনিধির উপস্থিতিতে এই কনফারেন্স বা সম্মেলনের আয়োজন করেছে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডেমোক্রেসি এন্ড ইলেক্টোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স। এই সম্মেলনের মূল বক্তা হিসেবে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার যেমন বক্তব্য রাখবেন তেমনি প্রায় কুড়িটি দেশের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে বিশ্বের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও পরিস্থিতি বজায় রাখতে সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করবেন। নির্বাচনী সংহতি রক্ষার ক্ষেত্রে সমসাময়িক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা কোন পথে তা নিয়ে আলোচনার জন্য নীতি নির্ধারক, প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের এক মঞ্চের আলোচনা সুযোগ করে দিয়েছে এই স্টকহোম কনফারেন্স। তথ্যের অপলাপ, প্রযুক্তিগত বাধা, নির্বাচনী সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন, জলবায়ু সংক্রান্ত ঝুঁকি এবং নির্বাচনী ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব-এই যাবতীয় আলোচনার মূল বিষয়বস্তু বলে জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে এই সার্বিক বিষয়গুলির উপরে ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। নিত্য নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে এই যাবতীয় নির্বাচনী বাধা গুলোকে দূর করার ক্ষমতার ভিত্তিতেই বিশ্বব্যাপী নির্বাচনী সংহতি তৈরির লক্ষ্যে এই স্টকহোম কনফারেন্সে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে বিশেষভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
