হানিমুনে গিয়ে স্বামী রাজা রঘুবংশীকে খুন করেও বিচলতি হননি সোনম। বরং একেবারে ‘সাজানো ছকে’ই সমস্ত কাজ সারেন। এমন কী রাজার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে মধুচন্দ্রিমার একাধিক ছবিও তিনি আপলোড করেছিল। মেঘালয় পুলিশের তদন্তে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। ঘটনার ১৭ দিন পর মেঘালয় পুলিশ ‘অপারেশন হানিমুনে’ একেবারে সাজানো চিত্রনাট্যের পর্দাফাঁস করেছে। কিন্তু কী ভাবে ভাড়াটে খুনিকে ডেকে প্রেমিক রাজের সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্বামী রাজাকে খুন করেন সোনম?
ইতিমধ্যে ভাড়াটে তিন খুনি-সহ সোনম এবং প্রেমিক রাজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক তথ্য। পুলিশের দাবি, রাজাকে খুনের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি আপলোড করা হয়। আর সেটাই তদন্তে অন্যতম মোড় বলে দাবি পুলিশ আধিকারিকদের। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের দাবি, সোনম হানিমুনের সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও ছবি আপলোড করেননি! আর সেটাই অবাক করেছে তদন্তকারীদের।
ওই সংবাদমাধ্যমে তদন্তকারীদের একজন জানিয়েছেন, নববিবাহিতরা মধুচন্দ্রিমায় এসেছেন, কিন্তু কোনও ছবি আপলোড করেননি সেটা বড্ড অস্বাভাবিক। ফলে সোনামকে নিয়ে তখন থেকেই পুলিশের মধ্যে একটা সন্দেহের দানা বাঁধে। তদন্তকারীদের আরও দাবি, খুনের পরেই অর্থাৎ দুপুর ২:১৫ মিনিটে রাজার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট করেন। যেখানে লেখা ছিল, “সাত জন্মোঁ কা সাথ হ্যায়…”। পুলিশের দাবি, তদন্তকে বিভ্রান্ত করতেই এই পোস্ট করা হয়। আর এর পিছনে ছিলেন সোনমই।
এখানেই শেষ নয়, ‘অপারেশন হানিমুন’ তদন্তে বড় ভূমিকা নেয় একটি সিসিটিভি ফুটেজও। পুলিশ জানিয়েছে, ক্রাইম সিন থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে সোনমকে তিন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। সম্ভবত ওই তিনজন ভাড়াটে খুনি বলেই দাবি পুলিশের। যদিও এই বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে খুনে ব্যবহৃত ছুরিটিও স্থানীয় কোনও দোকান থেকে কেনা হয়েছিল বলেও দাবি পুলিশ শীর্ষ আধিকারিকদের।
খুনের পর কী ভাবে ঘুঁটি সাজান সোনম?
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত ২৩ মে রাজাকে খুন করা হয়। এরপরেই ২৫ মে শিলং ছাড়েন সোনম। শিলিগুড়ি হয়ে ট্রেনে করে তিনি ইন্দোর পৌঁছন। সেখানে প্রেমিক রাজ কুশওয়াহার সঙ্গে দেখা হয় এবং দুজনে একটি ভাড়া বাড়িতে রাত কাটান বলে দাবি তদন্তকারীদের। এরপর একটি গাড়িতে বারাণসী হয়ে গাজীপুরে সোনম পৌছন। আর সেখানেই একটা ফোন কল সমস্ত রহস্যের পর্দাফাঁস করে।
যদিও গত ৩ এবং ৪ জুন মেঘালয় পুলিশের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এই খুনের ঘটনায় সোনমই জড়িত। এই সংক্রান্ত প্রমাণও হাতে চলে আসে। আর এরপরেই গত ৭ জুন বিশেষ অভিযানের প্ল্যানও সেরে ফেলে মেঘালয় পুলিশ। সেই মতো পরের দিন অর্থাৎ ৮ জুন ১৫-২০ জন পুলিশের একটি দল মধ্যপ্রদেশে পৌঁছে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালায়। গ্রেফতার করা হয় তিন ভাড়াটে খুনিকে।
