দীর্ঘ জেরার মুখে ভেঙে পড়ে সমস্ত কুকীর্তি ফাঁস করলেন সোনম রঘুবংশী। মধুচন্দ্রিমায় একেবারে পরিকল্পনা করে স্বামীকে খুনের ঘটনায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবারই মেঘালয় পুলিশ ধৃত সোনমকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এর পর চলে দফায় দফায় জেরা। দীর্ঘ জেরায় ভেঙে পড়েন সোনম। শুধু তাই নয়, রাজাকে খুনের পরিকল্পনা যে তাঁরই ছিল তাও কবুল করে নিয়েছেন বলে খবর।
পুলিশ সূত্রের খবর, রাজ কুশওয়াহা এবং সোনমকে মুখোমুখি জেরা করা হয়। দীর্ঘ এই জেরা পর্বে পুলিশ একাধিক প্রমাণ ধৃতদের সামনে রাখে। বলে রাখা প্রয়োজন, দীর্ঘ ১৭ দিন পুলিশ আধিকারিকরা তদন্তে একাধিক প্রমাণ জোগাড় করেছেন। সেই সমস্ত কিছু যেমন, সিসিটিভি ফুটেজ, রক্তের দাগ লাগা জ্যাকেট, সোনমের রেনকোট-সহ একাধিক প্রমাণ সামনে এনে চলে জিজ্ঞাসাবাদ। রাজাকে খুনে ব্যবহার করা ছুরি, উদ্ধার হওয়া ভাঙা মোবাইলও দেখানো হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, জেরাপর্বে একটা সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন সোনম। স্বামীকে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দেন বলে দাবি একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের। শুধু তাই নয়, এই খুনের ঘটনায় তিন জন ভাঁড়াটে খুনিকেও যে কাজে লাগানো হয়েছিল তাও পুলিশকে সোনম জানিয়েছেন বলে খবর। পাশাপাশি পুরো চক্রান্তে রাজ তাঁর পাশেই ছিল তাও স্বীকারোক্তি করেছেন ধৃত ওই মহিলা বলেই খবর।
অন্য দিকে, সোনম যে এই ঘটনার সঙ্গে সম্পূর্ণ ভাবে যুক্ত তা স্পষ্ট, বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে তাঁর ভাই গোবিন্দ। তাঁর কথায়, “প্রমাণ যে দিকে যাচ্ছে তাতে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত যে সোনমই খুনের ঘটনায় দায়ী।” যদিও তাঁর বাবা কয়েক দিন আগেই দাবি করেন, “তাঁর মেয়ে কখনই এই কাজ করতে পারে না।” এমন কী এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তেরও দাবি জানান। যদিও সোনম ধরা পড়তেই অন্য সুর ভাইয়ের মুখে।
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গোবিন্দ জানিয়েছেন, রাজ কুশওয়াহার সঙ্গে সোনমের সম্পর্কের বিষয়ে কিছুই জানা ছিল না পরিবারের। আগে জানলে এই ঘটনা কখনই ঘটত না। তবে এই ঘটনার পর সোনমের সঙ্গে তিনি এবং তাঁর পরিবারের কেউ যে আর কোনও যোগাযোগ রাখবে না, তা স্পষ্ট জানিয়েছেন দাদা গোবিন্দ।
