সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
প্রেমে প্রত্যাখ্যানের পাল্টা ৪২ কোপ। প্রত্যাখ্যাত হওয়ার জ্বালায় প্রাক্তন প্রেমিকাকে ৪২ বার কুপিয়ে খুন করে ‘ব্যর্থ’ প্রেমিক। খুনের মোটিভ এবং ভয়ংকরতা বিচার করে প্রেমিককে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। নিম্ন আদালতের সেই আদেশ রদ করে সুতপা চৌধুরী খুনের ঘটনায় ‘ব্যর্থ’ প্রেমিক সুশান্ত চৌধুরীর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন রায় দিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে ফাঁসি রদ, আমৃত্যু কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা খুনি সুশান্ত চৌধুরী’র। ৪০ বছরের আগে সাজা মাফ চেয়ে আবেদন করতে পারবেন না সুশান্ত। অর্থাৎ, মে,২০৬২ সালের আগে সাজা কমানোর কোনও আবেদন করা যাবে না। যা রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন নির্দেশ বলেই জানিয়েছে আইনজীবী মহল। আইন অনুযায়ী আমৃত্যু কারাদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত বন্দি প্রতি ১২ বছর অন্তর তার সাজা মকুবের বা সাজার মেয়াদ কমানোর আবেদন করতে পারে। মূলত সেই লক্ষ্যেই জেলখানার নাম বদলে সংশোধনাগার করা হয়েছে কেন্দ্রীয় আইনে। সংশোধনের সুযোগ দিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি বিচার করে আদালতের মাধ্যমে ওই যাবজ্জীবন বা আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত বন্দির সাজার মেয়াদ কমাতে পারে প্রশাসন। যেহেতু খুনের ঘটনার সময় সুশান্তর বয়স ছিল ২১. সে কথা মাথায় রেখে সংশোধনের সুযোগ দিতে নিম্ন আদালতের ফাঁসির দণ্ডাদেশ রদ করে কলকাতা হাইকোর্ট। পাশাপাশি খুনের ধরন এবং খুনি মানসিকতার রূঢ়তা বিচার করে ফাঁসির সাজা রদ করেও আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এখানেই শেষ নয়, ৪০ বছরের মধ্যে সাজা প্রাপ্ত সুশান্ত তার সাজার মেয়াদ কমানোর জন্য কোনো আবেদন করতে পারবে না স্পষ্ট নির্দেশ বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চের। বর্তমানে ২৪ বছরের সুশান্ত তার নিজের প্রায় ৬২ বছর বয়স পর্যন্ত লাগাতার জেলবন্দি থাকবেন, জেল মুক্তির কোনো আবেদন গ্রাহ্য করা হবে না।
ঘটনার তারিখ, ২ মে ২০২২, ঘটনার সময়- সন্ধে ৬:৩৫। ঘটনাস্থল- বহরমপুর। প্রেমিক সুশান্তকে প্রত্যাখ্যান করে মালদার বাসিন্দা সুতপা চৌধুরী মূলত সুশান্তর থেকে দূরে থাকতেই বহরমপুরের গোরা বাজারে একটি মেস বাড়িতে থেকে পড়াশোনা শুরু করে। ঘটনার দিন গোরাবাজার মেসে ফেরার পথে আচমকা সুতপাকে আক্রমণ করে সুশান্ত। দুই-দশটি নয়, প্রেমে ব্যর্থতার আক্রোশ থেকে নয়নয় করে ৪২ কোপে প্রকাশ্য রাস্তায় সুতপার দেহ ছিন্নভিন্ন করে দেয় সুশান্ত চৌধুরী। স্থানীয়রাই সুশান্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ২০২৩-এর অগাস্ট মাসে সুশান্তের মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয় বহরমপুর ৩ নম্বর ফাস্ট ট্রাক কোর্ট ।
সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আপিল করে সুশান্ত। অন্যদিকে মৃত্যুদণ্ড সুনিশ্চিত করতে চেয়ে ডেথ রেফারেন্স মামলা করে রাজ্য। বুধবার সেই মামলার শুনানি শেষে এই নজিরবিহীন রায়দান বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চের।
