পহেলগামে জঙ্গি হানায় মৃত্যু হয়েছিল এক স্থানীয় বাসিন্দার। এক জঙ্গির হাত থেকে রাইফেল ছিনিয়ে নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু পারেননি। বদলে জঙ্গিদের গুলি ফুঁড়ে দিয়েছিল ৩২ বছরের সৈয়দ আদিল হুসেন শাহের শরীর। পহেলগামে জঙ্গিদের গুলিতে মৃত টাট্টু ঘোড়ার ব্যবসায়ী আদিলের বাড়িতে গেল সিপিএমের প্রতিনিধি দল। দলের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির নেতৃত্বে বুধবার বামেরা আদিলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার বার্তা দেয়। প্রসঙ্গত, পরিবারের একমাত্র সন্তান আদিলের উপার্জনের ভরসাতেই সংসার চলত। জঙ্গিদের গুলিতে সব শেষ।
পহেলগামে ঘুরতে আসা পর্যটকদের টাট্টু ঘোড়ার পিঠে বসিয়ে ঘুরিয়ে দেখানোর কাজ করতেন আদিল। বৈসরন উপত্যকায় এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে গাড়ি যায় না। তাই পর্যটকদের একমাত্র ভরসা ঘোড়া। আদিলেরও তেমনই একটি টাট্টু ঘোড়া ছিল। চলতি পরিভাষায়, পনি অপারেটর। পর্যটকদের সেই ঘোড়ার পিঠে বসিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ভূস্বর্গ দেখাতেন আদিল। গত ২২ এপ্রিলও তেমনই পর্যটক নিয়ে এসেছিলেন বৈসরনে। সেই সময় জঙ্গিরা আক্রমণ করে। মুহূর্তের মধ্যে কী হচ্ছে বুঝতে পেরে আদিল ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এক রাইফেলধারী জঙ্গির উপর। কিন্তু জঙ্গিদের গুলি বাঁচতে দেয়নি আদিলকে। গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিলেন আদিল। সেই আদিলের বাড়িতে পৌঁছে গেলেন সিপিএম নেতারা। বেবির নেতৃত্বাধীন ওই দলে আছেন সাংসদ অমরা রাম, কে রাধাকৃষ্ণন, জন ব্রিটাস, এ এ রহিম, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য প্রমুখ। বুধবার তাঁরা আদিলের বাড়িতে যান। কথা বলেন ছেলেহারা মা, বাবার সঙ্গে। তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেন।
সিপিএমের ছ’জনের এই প্রতিনিধি দল কাশ্মীরের উরিতে পাক শেলিংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখে। কথা বলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে। পহেলগামকাণ্ডের পর পাকিস্তান এবং সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা করে পথে নেমেছিলেন সাধারণ কাশ্মীরিরা। সিপিএমের প্রতিনিধিরা সেই মিছিলে অংশ নেওয়া মানুষের সঙ্গেও কথা বলেন। গত রবিবার আদিলের বাড়িতে এসেছিলেন অসমের কৃষিমন্ত্রী অতুল বোরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে কাশ্মীরের মাটিতে দাঁড়িয়ে আদিলের বীরত্বের কথা বলেছিলেন।
প্রসঙ্গত, বৈসরনে সে দিন ধর্ম জিজ্ঞেস করে, কলমা পড়তে বলে ২৫ জনকে হত্যা করেছিল পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। তাদের নিশানায় ছিল মূলত হিন্দুরা। যাতে দেশে অস্থিরতা তৈরি করা যায়। কিন্তু আদিল নিজে ছিলেন একজন মুসলিম ধর্মাবলম্বী। তা সত্ত্বেও তিনি প্রাণের পরোয়া না করে জঙ্গিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তার মাসুল গুণতে হয়েছিল প্রাণ দিয়ে। এ হেন শহিদের বাড়ি গিয়ে পাশে থাকার অঙ্গীকার করল সিপিএম।
