মার্কিন সেনাবাহিনীর ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত পাকিস্তানের চিফ অফ আর্মি স্টাফ ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। এ জন্য শনিবারের কুচকাওয়াজে যোগ দিতে তিনি ওয়াশিংটন যাচ্ছেন বলেও খবর। ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার আবহে এই খবর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একই সঙ্গে স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও পেন্টাগনে উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সূচিও তৈরি।
খুব সম্প্রতি ‘ইউএস সেন্টকম’ বা সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল মাইকেল কুরিল্লা সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, পাকিস্তান ও ভারত—দুই দেশকেই সঠিক ভাবে ভারসাম্য রেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পরিচালনা করতে হবে। তাঁর মন্তব্য, “এটা কোনও বাইনারি সিদ্ধান্ত নয়।” প্রত্যাশিত ভাবেই ভারতের পক্ষ থেকে এই সফরের সময় ও প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কারণ, ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক জঙ্গি হামলার অভিযোগ রয়েছে এবং সেগুলোর নেপথ্যে আইএসআইয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই আমন্ত্রণে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের রাজনৈতিক মহল। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ টুইট করে প্রশ্ন তুলেছেন, “পহেলগামে হামলার আগেই যেখানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান যুদ্ধংদেহী ভাষা প্রয়োগ করেছিলেন, সেখানে তাঁকে এই আমন্ত্রণ কেন?” তিনি একে মোদী সরকারের “কূটনৈতিক ব্যর্থতা” বলেও কটাক্ষ করেন।
প্রসঙ্গত, পহেলগামের ঘটনা এবং তারপর ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে গোটা বিশ্বে জনমত গড়ে তুলতে এবং পাকিস্তানকে একঘরে করতে একাধিক সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল গুরুত্বপূর্ণ রাজধানীগুলির সফর করে। তার মধ্যে ওয়াশিংটন ডিসি-ও ছিল। শশী থারুররা দল বেঁধে সেখানে গিয়ে পাকিস্তানের মুখোশ খুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রথমে ট্রাম্পের সেনার এক শীর্ষ পদাধিকারীর মুখে পাকিস্তানের সেনার প্রশংসা এবং তার পর পাক সেনা প্রধানকে সে দেশে প্যারেড দেখতে যাওয়ার আমন্ত্রণ, ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। যা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে ভারতে।
