ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে ফের তাঁর ক্ষোভের কথা জানালেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার লন্ডনের চ্যাথাম হাউজে রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সে এক আলোচনার পর প্রশ্নোত্তর পর্বে কথা বলতে গিয়ে তিনি উষ্মার কথা জানান।এদিন ইউনূস বলেন, শেখ হাসিনার বাংলাদেশিদের উদ্দেশে অনলাইন ভাষণ রোধ করতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন।এনডিটিভি প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী আলোচনায় ইউনুস বলেন, শেখ হাসিনার বারবার সামাজিক মাধ্যমে বক্তব্য রাখার ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে।
গত প্রায় এক বছরে বাংলাদেশে নানা অশান্তির দায় বারবার নানাভাবে সেদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপরেই চাপিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস।এদিনও তার ব্যতিক্রম হয় নি। এদিন তিনি বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, “সব রাগ ( বাংলাদেশের মানুষের) এখন ভারতের দিকে চলে যাচ্ছে, কারণ তিনি (শেখ হাসিনা) সেখানে গিয়েছেন। শুধু যান নি, থাকছেনও সেখানে। আমি যখন মোদীজির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলাম, তখন বললাম, ‘আপনি চাইলে ওঁকে আশ্রয় দিন, আমি সেটা থামাতে পারি না। কিন্তু উনি বাংলাদেশের মানুষকে যেভাবে বার্তা দিচ্ছেন, যাতে না দেন দয়া করে তা নিশ্চিত করুন।'” অর্থাৎ গত প্রায় এক বছরে তাঁর অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে নানা সমালোচনা তৈরি হলেও ইউনূসের দাবি বাংলাদেশের জনমনে নানা ক্ষোভ ও অস্থিরতা বাড়ার পিছনে হাসিনার ভাষণই দায়ী। ইউনূসের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য ও প্রোপাগান্ডা এখনও দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করছে এবং ২০২৪ সালের সেই ভয়াবহ গণ-অভ্যুত্থানের ক্ষত থেকে পুনরুদ্ধারে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান আরও জানান, শেখ হাসিনাকে ভারতের কাছ থেকে প্রত্যার্পণের অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বার্তা দেওয়া হলেও ভারতের পক্ষ থেকে তা নিয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে চলার বার্তাই দিয়েছেন তিনি। তিনি জানান, “আমরা বিষয়টিকে সম্পূর্ণ আইনি ও সুশৃঙ্খলভাবে এগোতে চাই। প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।কোনও রকম রাগের বশে বা তাড়াহুড়ো করে কিছু করতে চাই না।”
Leave a comment
Leave a comment
