সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বিধানসভার ভিতরে
“আনকন্ট্রোলড “। ঠিক এই ভাষাতেই বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারির সমালোচনা করলেন। অধ্যক্ষের মতে,” বিরোধী দলের সদস্যদের নিজেদের উপর নিজেদের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। আমি অনেকবার বিরোধী দলনেতাকেও বলেছি, আপনি সদনে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও আপনার দলের সদস্যরা যে অভব্য আচরণ করছে তাকে নিয়ন্ত্রণ করুন। কিন্তু কোনো কাজের কাজ হয় না। বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক শংকর ঘোষকেও বলে কোনো লাভ হয় না। কারণ বিরোধী দলের সদস্যরা কারওর নিয়ন্ত্রণ মানেন না। আর বিরোধী দলনেতা নিজেই ‘আনকন্ট্রোলড’। দিনের পর দিন বিভিন্ন ইস্যুতে বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন অধিবেশন মুলতুবি দাবি করে বিরোধীরা বিধানসভার ভিতরেই ওয়েলে নেমে বা অধিবেশন কক্ষ জুড়ে বিক্ষোভ শ্লোগান দিয়ে অধিবেশনের কাজ ব্যাহত করছেন বলে অভিযোগ। শুধু স্লোগান দিয়ে বা বিক্ষোভ দেখিয়ে নয়, সরকারি নথিপত্র বা সরকারি কাগজ ছিড়ে অধিবেশন কক্ষে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলাও বিরোধীদের নিত্যদিনের কর্মসূচি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে শাসকদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মহেশতলার ইস্যুতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়। অধিবেশন মুলতবির দাবি করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি স্লোগান ও চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকেন বিরোধী দলের বিধায়করা। অধ্যক্ষ মুলতবির দাবি খারিজ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। বিরোধী দলের মুখ্য সচেতককে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনো বদল হয়নি । এমনকি বিরোধী দলনেতা নিজেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কোনো চেষ্টা করেননি বলে শাসক দলের বিধায়কদের অভিযোগ। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, যে দুটি মুলতবি প্রস্তাব বিরোধীদের পক্ষে আনা হয়েছিল তার একটি বিচারাধীন এবং অন্যটি বিধানসভার উল্লেখ পর্বে আনার যোগ্য। এই বিষয়টি বিরোধী দলনেতা ও বিরোধী দলের মুখ্য সচেতককে বারবার জানিয়েও সুফল মেলেনি বলে জানিয়েছেন বিধানসভার অধ্যক্ষ নিজেই। বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন
“এভাবে বিধানসভাকে স্তব্ধ করা যায় না। অধিবেশনের কাজ চালিয়ে যাওয়াই বিধানসভার অধ্যক্ষ বা লোকসভার অধ্যক্ষ সকলের দায়িত্ব। কোন অনিবার্য কারণ ছাড়া যে কোন অজুহাতে বিধানসভা মুলতবির করা যায় না বা বিধানসভার কাজ স্তব্ধ করা যায় না। নিজেদের উদ্দেশ্য সাধন না হলেই বিরোধীপক্ষ বিধানসভার অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে নকআউট করে বাইরে গিয়ে বিক্ষোভ দেখায়, নানা ধরনের কথা বলে। এটা বিধানসভার ক্ষেত্রে শোভনীয় নয়।” উল্লেখযোগ্য, বিরোধীপক্ষ যখন বিধানসভায় শোরগোল তুলে ওয়াক আউট করে বিধানসভার কাজের জটিলতা তৈরি করার চেষ্টা করছেন তখন বৃহস্পতিবার বিধানসভার কোনো বিরতি ঘোষণা না করেই অধিবেশনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ হিসেবে অধ্যক্ষ জানান, “বিরতি নিলেই বিরোধীরা বাইরে এসে বিধানসভার স্তব্ধ করে দিয়েছি বলে জাহির করতেন। ওদের উদ্দেশ্য বুঝেই বিরতি না নিয়ে বিধানসভার কাজ অনুযায়ী অধিবেশন চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। বিধানসভা গড়িমা বজায় রাখতে এটা গুরুত্বপূর্ণ।”
