ভারতের মাটিতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে টেক অফের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভেঙে পড়ল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। জানা যাচ্ছে, অভিশপ্ত বিমানটি বোয়িং ৭৮৭ ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে সেটি ব্যবহার করে আসছে এয়ার ইন্ডিয়া। সেই মতো বৃহস্পতিবার লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেয় বিমানটি। কিন্তু কয়েক মুহূর্তেই সব শেষ! গুজরাত পুলিশ জানাচ্ছে, বিমানে ২৪২ জন যাত্রী ছিলেন। যাত্রী তালিকায় ছিলেন সে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানিও।
দুপুর ১ টা ৩৮ মিনিটে বিমানটি টেকঅফ করে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই জনবহুল মেঘানিনগর বলে একটি জনবহুল এলাকায় সেটি ভেঙে পড়ে। জানা যাচ্ছে, টেকঅফের পরেই পাইলট বিমানটিতে কিছু ত্রুটি লক্ষ্য করেছিলেন। আর সেই কারণে ATC (এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল) কে Mayday Call দেন বলে দাবি একাধিক সংবাদমাধ্যমের। তৎক্ষণাৎ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ATC দেখলেও, ততক্ষণে সব শেষ। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, পাইলটের Mayday Call এর পরেই বিমানের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক করা সম্ভব হয়নি। পাশের মেডিকেল কলেজের ডাক্তারদের হস্টেলের উপর ভেঙে পড়ে বিমানটি।
কিন্তু কী এই Mayday Call?
যখন কোনও বিমানের পাইলট বা ক্যাপ্টেন মাঝ আকাশে যখন গুরুতর সমস্যায় পড়েন, যেমন বিমানে কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি, আগুন লাগা বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি, সেই সময় সংশ্লিষ্ট বিমানের চালক রেডিওতে ‘Mayday Call’ কল দেন। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এই কল সেট করা হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি রয়েছে, কিংবা দ্রুত সাহায্যের প্রয়োজন পড়লেই ক্যাপ্টেন এই কল দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রেও এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান মে ডে কল দিয়েছিল বলেই খবর।
তবে শুধু বিমানে ক্ষেত্রেই যে এটা প্রযোজ্য তা নয়, মাঝ সমুদ্রে থাকা জাহাজ, দমকল, পুলিশ, এমনকী একাধিক দেশের রোড ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিও এই শব্দকে ব্যবহার করে থাকেন।
কী বলছে ডিজিসিএ?
কীভাবে এবং কেন এই বিমান ভেঙে পড়ল তা স্পষ্ট নয়। বিমানে থাকা ব্ল্যাকবক্স এ ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ধারের পাশাপাশি সেটার খোঁজ চলছে বলে জানা যাচ্ছে। অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ জানাচ্ছে, এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে ২৪২ জন যাত্রী ছিলেন। যার মধ্যে দুজন পাইলট এবং ১০ জন কেবিন ক্রু’ও ছিলেন। ডিজিসিএ’র তথ্য অনুযায়ী, বিমানটিতে ক্যাপ্টেন ছিলেন সুমিত সাভারওয়াল এবং সঙ্গে ছিলেন ফার্স্ট অফিসার ক্লাইভ কুন্ডার। মনে করা হচ্ছে, সবারই মৃত্যু হয়েছে।
