আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২৪১ জন যাত্রীর! আজ দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের পথে রওনা হওয়া এয়ার ইন্ডিয়া’র ফ্লাইট এআই-১৭১ মর্মান্তিকভাবে ভেঙে পড়ে মেঘানিনগর এলাকার এক আবাসিক এলাকায়। বিমানে ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ, সাতজন পর্তুগিজ এবং একজন কানাডিয়ান নাগরিক ছিলেন। সন্ধ্যায় পুলিশ নিশ্চিত করে যে বিমানটিতে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জন যাত্রী দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি।
কিন্তু কে ছিলেন বিজয় রূপানি? বিজয় রূপানি ভারতের অন্যতম পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ১৯৫৬ সালের ২ অগাস্ট তিনি জন্মগ্রহণ করেন বার্মার (বর্তমানে মায়ানমারের) রেঙ্গুন শহরে। পরবর্তীতে তাঁর পরিবার ভারতে চলে আসে। তিনি ২০১৬ সালের আগস্ট মাস থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গুজরাট রাজ্যের ১৬তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় রাজকোটে। ১৯৯৬-৯৭ সালে তিনি রাজকোটের মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভার সংসদ সদস্য ছিলেন। রাজ্য মন্ত্রিসভায় পরিবহন, শ্রম ও পানীয় জল সহ বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গুজরাট বিজেপির সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন এবং রাজকোট পশ্চিম কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালের আগস্ট মাস থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গুজরাট রাজ্যের ১৬তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিজয় রূপানি।
সূত্রের খবর, বিজয় রূপানির স্ত্রী অঞ্জলি রূপানি বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন। স্ত্রীকে আনতে লন্ডনে যাচ্ছিলেন বিজয় রূপানি। ১২ নম্বর যাত্রী হিসেবে এয়ার ইন্ডিয়ার ওই বিমানে ওঠেন তিনি। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিজয় রূপানির গান্ধীনগরের বাসভবনের বাইরে ভিড় করেন বহু সমর্থক ও পরিচিতজন। প্রাক্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্রসিং চুডাসামা জানান, “আমি যখন খবর শুনি, তখনই তাঁর বাড়িতে চলে আসি। এখন বিমানবন্দরের দিকেই রওনা দিচ্ছি খবরের খোঁজে।”
দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত এবং নিহতদের আমেদাবাদ সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে নিয়ে আসা হয়। অনেকের দেহ শনাক্ত করা যায়নি। তবে জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবারের ভয়াবহ এয়ার ইন্ডিয়া বিমান দুর্ঘটনায় ২৪১জনেরই মৃত্যু হয়েছে। ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছেন একজন। ১১এ আসনের ওই যাত্রী বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি। তাঁর চিকিৎসা চলছে।
