ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু মিছিল। চারপাশে ছড়িয়ে একের পর এক ঝলসে যাওয়া দেহ। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে দেহগুলিকে শনাক্ত করাও কতটা সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শুধু তাই নয়, চারপাশ জুড়ে হাহাকার আর কান্না। হাসপাতালের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন স্বজনহারারা। বিমানেই ঝলসে গেল অনেক স্বপ্ন, শোকের ছায়া নামল বহু পরিবারে।
অভিশপ্ত ওই বিমানের যাত্রী ছিলেন খুসবু রাজপুরোহিত। খুশবু বালোতোরের আরাবা গ্রামের বাসিন্দা। লন্ডনে বসবাসকারী স্বামী মনফুল সিংয়ের কাছে যাচ্ছিলেন তিনি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই বিয়ে হয় খুসবুর। বিয়ের পর এটাই ছিল তাঁর প্রথম লন্ডন সফর। চোখে ছিল একরাশ স্বপ্ন।
লন্ডনের বুকে স্বামী মনফুল সিংয়ের সঙ্গে একটা সুন্দর সংসার গড়বেন। কিন্তু ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সব স্বপ্ন মুহূর্তে ভেঙে চুরমার। জানা গিয়েছে, মনফুল সিং লন্ডনের একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত। সেখানেই যাচ্ছিলেন খুসবু।
বৃহস্পতিবার সকালে খুসবুর বাবা নিজে আহমেদাবাদ বিমানবন্দরে ছাড়তে যান মেয়েকে। ছিলেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়া বিমানের দুর্ঘটনার খবর পান তাঁরা। প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত পর্যন্ত খুসবুর কোনও খোঁজ পাননি তাঁর বাবা। কখনও দুর্ঘটনাস্থলে ছুটছেন তো আবার কখনও হাসপাতাল।
বিমানটিতে উদয়পুরের চারজনও ছিলেন
লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটিতে রাজস্থানের ১১ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যেই বাঁশওয়াড়া এলাকার একই পরিবারের পাঁচজন সদস্য ছিলেন। ছিলেন উদয়পুরের এক মার্বেল ব্যবসায়ীর ছেলে ও মেয়ে। দুজনেই লন্ডন ঘুরতে যাচ্ছিলেন। এছাড়াও উদয়পুরের একটি গ্রামের দুই যুবকও ওই অভিশপ্ত বিমানে ছিলেন বলে খবর। ঘটনার পর থেকে কারোর খোঁজ পাচ্ছেন না পরিবারের সদস্যরা। কি অবস্থায় রয়েছেন তাও স্পষ্ট নয়। তবে সময় যত গড়াছে ততই ক্ষিণ হচ্ছে অভিশপ্ত বিমানের যাত্রীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা। যদিও এর মধ্যেই ঘটেছে মিরাকল! প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন বিশ্বাসকুমার রমেশ নামে এক ব্যক্তি। আর সেটাই আশা জাগাচ্ছে অন্যান্য পরিবারগুলিকেও।
