বৃহস্পতিবার ঘটে গিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট এআই-১৭১-এর দুর্ঘটনা। আহমেদাবাদ থেকে লন্ডন যাওয়ার পথে ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ে বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানটি। তাতেই প্রাণ হারান ২৪১ জন যাত্রী। এ যেন ভারতের বিমানযাত্রার ইতিহাসে এক মর্মান্তিক অধ্যায়। তবে এই ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে ফিরেছেন একজন! দুর্ঘটনার পরের দিন অর্থাৎ আজ শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
প্রধানমন্ত্রী এদিন সর্দার বল্লভভাই পটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে সরাসরি চলে যান দুর্ঘটনাস্থলে। সেখানে তাঁর সঙ্গে তাঁর আগেই উপস্থিত ছিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলও। পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শহরের সিভিল হাসপাতালে গিয়ে দেখা করেন দুর্ঘটনার একমাত্র জীবিত যাত্রী, ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক রমেশ বিশ্বাস কুমারের সঙ্গে।
দুর্ঘটনার পর এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “এই দুর্ঘটনা সত্যিই মন ভেঙে দেওয়ার মতো। এমন দুঃখের মুহূর্তে আমি সব ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আছি। মন্ত্রক ও প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে যাচ্ছি যাতে দ্রুত সাহায্য পৌঁছানো যায়।”
বৃহস্পতিবারই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু কিন্জারাপু। দুর্ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্র। দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানা গিয়েছে, দুপুর ১:৩০ নাগাদ বিমানটি আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে ওড়ার পরই হঠাৎ মেঘানিনগর এলাকার বিএ জে মেডিকেল কলেজের আবাসিক চত্বরে ভেঙে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। ঘটনার পর কন্ট্রোল টাওয়ার জানায়, পাইলট জরুরি অবস্থা বোঝাতে “মে ডে” কল দিয়েছিলেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, উভয় ইঞ্জিনে থ্রাস্ট কমে যাওয়া কিংবা পাখির সঙ্গে ধাক্কা লাগার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ডিজিসিএ জানিয়েছে, বিমানটি চালাচ্ছিলেন ক্যাপ্টেন সুমিত সাবারওয়াল। তাঁর ফ্লাইট অভিজ্ঞতা ৮২০০ ঘণ্টা এবং তাঁর সঙ্গে ছিলেন ফার্স্ট অফিসার ক্লাইভ কুন্ডার, যাঁর ১১০০ ঘণ্টার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, একমাত্র যাত্রী যিনি বেঁচে গেছেন তিনি একজন ব্রিটিশ নাগরিক, তবে ভারতীয় বংশোদ্ভূত। শুধু তাই নয়, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিএ জে মেডিকেল কলেজের পাঁচজন ছাত্রছাত্রীরও মৃত্যু হয়েছে।
