আশঙ্কা ছিল! আর তা সত্যি করে ইরানে হামলা চালাল ইজরায়েল। সে দেশের বৃহত্তম ইউরেনিয়াম কেন্দ্রে চলে বিমানহানা। হামলা চালানো হয়েছে ইরানের সেনাঘাঁটিগুলিতেও। মৃত্যু হয়েছে ইরানের সেনা প্রধান মহম্মদ বাগেরি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্তার। পাল্টা আঘাত হানতে শুরু করেছে তেহরানও। অন্তত ১০০টি ড্রোন পাঠানো হয়েছে ইজরায়েলকে নিশানা করে। ফলে ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে পশ্চিম এশিয়া।
ইজরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের সেনা প্রধান জেনারেল মহম্মদ বাগেরির মৃত্যু হয়েছে। ইতিমধ্যে তেহরানের একাধিক সংবাদমাধ্যম এই খবর নিশ্চিত করেছে। সে দেশে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ইজরায়েলের হামলায় ইরানের ‘রেভোলিউশনারি গার্ডে’র চিফ হোসেইন সালামিরও মৃত্যু হয়েছে। কড়া ভাষায় ইজরায়েলকে জবাব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বলে রাখা প্রয়োজন, জেনারেল বাগেরি ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড সঙ্গে কৌশলগত এবং পারমাণবিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এমনকী দেশের অস্ত্রভাণ্ডার এবং মিসাইল উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বাগেরির বড় ভূমিকা ছিল বলে দাবি।
অন্য দিকে, ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমে এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ইজরায়েল ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, মিসাইল সিস্টেম সহ একাধিক অবস্থানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এমনকী সেনা শীর্ষ আধিকারিকদেরও টার্গেট করা হয়। আইআরজিসি সদর দফতরেও হামলা করা হয়েছে। ওই সেনা আধিকারিকের কথায়, বিজ্ঞানীদেরও ছাড় দেওয়া হয়নি। সে দেশের জাতীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, ইজরায়েলের হামলায় ছ’জন বিজ্ঞানীর মৃত্যু হয়েছে এখনও পর্যন্ত।
জানা যাচ্ছে, ইরানের পাল্টা হামলার শঙ্কায় ইজরায়েল জুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। বন্ধ একাধিক বিমানবন্দর। বন্ধ রাখা হয়েছে এয়ারস্পেসও। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই ইজরায়েলকে ‘কড়া শাস্তি’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘ইরানের উপর আক্রমণ করে ইজরায়েল নিজেদের রূপ চিনিয়ে দিয়েছে। নিজেদের দুর্ভাগ্যও ডেকে এনেছে। এর ফল পেতে হবেই।’
