আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার একটি হস্টেলের উপর ভেঙে পড়ে। বহু যাত্রী নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিক রিপোর্ট, তদন্ত চলছে। এই প্রথম এই মডেলের কোনও বিমান এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার শিকার হল, ফলে বোয়িংয়ের বহু বছরের বিতর্কিত নিরাপত্তা ও নকশাগত ত্রুটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু।
২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই ড্রিমলাইনার বিমানকে এক সময় আধুনিক বাণিজ্যিক উড়ানের ভবিষ্যত বলা হত। কিন্তু শুরু থেকেই নানা সমস্যা। খরচ কমাতে বিশ্বজুড়ে নানা অংশে এর যন্ত্রাংশ তৈরি করা হত, যার ফলে একাধিক গুণগত সমস্যা সামনে আসে। ডেলিভারিতে দেরি, ব্যাটারি বিস্ফোরণ, এবং উৎপাদনে গাফিলতির অভিযোগ বহুদিন ধরেই ছিল। যদিও ২০১১ সালে প্রথম পরিষেবা শুরু হওয়ার পর থেকে এত দিন কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
বহু পুরনো অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে এই দুর্ঘটনার পরে। বিভিন্ন প্রাক্তন ইঞ্জিনিয়ার ও হুইসল ব্লোয়াররা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছিলেন যে, ড্রিমলাইনারের যন্ত্রাংশের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা এবং নিরাপত্তা প্রোটোকলের অবহেলার মতো বিষয়গুলো উপেক্ষা করা হচ্ছে। কিছু কর্মী দাবি করেছেন, সংস্থার ভিতরে নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে মুখ খুললে তাঁদের হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে।
এই দুর্ঘটনার পরে ভারতীয় ও মার্কিন উভয় এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। বোয়িং এখনও দাবি করছে যে, তাদের বিমান নিরাপদ, কিন্তু টানা একাধিক অভিযোগ, তদন্ত এবং এখন এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা বোয়িংয়ের ভাবমূর্তি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে। শেয়ার বাজারে হু-হু করে কমছে বোয়িংয়ের দর। আপাতত এয়ার ইন্ডিয়ার বাকি ড্রিমলাইনার গুলিকে কঠোর নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।
