এক পরিবারে প্রায় পর পর মৃত্যু হয় তিন জনের। প্রথমে বাবা, তার পরেই কাকা এবং শেষে বাড়ির একমাত্র ছেলে। অল্প দিনের মধ্যে তিন জনকে হারিয়ে পরিবারের বাকিরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান অন্যত্র। আর সেই ফাঁকা বাড়িতেই নাকি ভূতের উপদ্রব! পরিস্থিতি এমন যে, ওই বাড়ির আশপাশে থাকা পরিবারগুলি গ্রাম ছাড়ার কথা ভাবছেন। কারণ, ফাঁকা ওই বাড়িতে নাকি রাত নামলেই শুরু হচ্ছে নানা ঘটনা। গভীর রাতে হাজার ওয়াটের আলো জ্বলে ওঠা থেকে পাড়া পড়শিদের নাম ধরে ডাকাডাকি… বাদ নেই কিছুই। ভূতের ভয়ে কাঠ গ্রামবাসীরা। ঘটনা এই রাজ্যের বাঁকুড়ার।
ইন্দপুরের বাঁশকোটরা গ্রাম। ভূতের ভয়ে সেই গ্রামের পথেঘাটে সম্প্রতি বসেছে বিদ্যুতের আলো। গ্রামের রাস্তায় রাতে টহল দিচ্ছে পুলিশ। চেঁচিয়ে বলতে হচ্ছে, ‘ভয় নেই গো, আমরা আছি!’ কিন্তু গলা শুকিয়ে কাঠ গোটা গ্রামের। অনেকেই ভেবেছেন, ভিটে ছেড়ে চলে যাবেন কোথাও। নিজে বাঁচলে তবে না বাড়ি-ঘর!
ঘটনা হল, বাঁশকোটরায় ক’দিন আগেই মৃত্যু হয় বছর ২০-এর এক তরুণের। ঘটনাচক্রে, তার কিছু দিন আগেই প্রায় পর পর মৃত্যু হয় তরুণের বাবা এবং কাকার। এর পর পরিবার বাঁশকোটরা ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। ফাঁকা পড়ে তাদের ভিটে। গ্রামবাসীদের দাবি, সেই ফাঁকা বাড়িতেই আড্ডা গেড়েছে ভূত। সূর্য ডুবলেই তেনাদের অস্তিত্ব মালুম হচ্ছে রোজ। কখনও গভীর রাতের অন্ধকার খান খান করে জ্বলে উঠছে হাজার ওয়াটের আলো। আবার কখনও পাড়া প্রতিবেশীর নাম ধরে টানা ডাকাডাকি। কারও উপর হামলা বা সেই ধরনের কিছু এখনও হয়নি, কিন্তু হতে কতক্ষণ! ভয় ঢুকে গেছে গ্রামবাসীদের মধ্যে। তারা গ্রাম ছাড়তে চান।
এই খবর পেয়ে স্থানীয় থানার লোকেরা এসেছিলেন গ্রামে। বাসিন্দাদের ভয় কাটাতে থানা থেকেই বসিয়ে দিয়ে গেছে পথবাতি। রাতে চলছে টহলদারি। কিন্তু ভয় যে কিছুতেই কমছে না গ্রামের। বিভ্রান্তি কাটাতে বিজ্ঞান মঞ্চ থেকে গ্রামে লাগাতার প্রচার শুরু হয়েছে। গ্রামবাসীরা অনেকেই বলছেন, পুলিশ আর বিজ্ঞান মঞ্চের প্রচারে কিছুটা হলেও ভয় কেটেছে তাদের। কিন্তু পুরোপুরি কাটেনি। এখন সন্ধের পর কোনও কাজে বাড়ি থেকে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন কেউ কেউ। যাদের একান্তই বেরোতে হচ্ছে, তারা তারস্বরে রামনাম জপছেন হাঁটতে হাঁটতেই। পুলিশ সূত্রে খবর, আপাতত গ্রামবাসীদের ভয় কাটাতে রাতে বাঁশকোটরায় টহলদারি চলবে। সেই সঙ্গে চলবে কুসংস্কার বিরোধী প্রচার। বিজ্ঞান মঞ্চও গ্রামে গিয়ে আরও প্রচার চালাবে বলে জানিয়েছে। ২০২৫ সালে এসে গ্রামবাসীদের ভূতের ভয় কাটাতে বদ্ধপরিকর পুলিশ এবং বিজ্ঞান মঞ্চ।
