লর্ডস টেস্ট। ফাইনালের চতুর্থ দিন। পুরো গ্যালারির চোখ তখন প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার দিকে। হাঁটতে পারছেন না ঠিকমতো। হ্যামস্ট্রিং ছিঁড়ে গেছে। তবুও মাঠ ছাড়েননি। ব্যথা গিলে নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন উইকেটে। আর তাঁর সেই অসম লড়াই থেকেই জন্ম নিল এক মহাকাব্য।
যে ম্যাচটায় একসময় দক্ষিণ আফ্রিকা ছিল চাপে, সেখানেই মার্করামের সঙ্গে জুটি বেঁধে বাভুমা তৈরি করলেন জয়ের ভিত। দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর ৬৬ রানের ইনিংসটা শুধু পরিসংখ্যান নয়, এটা লড়াকু নেতৃত্বের পাঠ। বারবার ফিজিওর কাছে যাচ্ছেন, হাঁটুর উপর হাত রেখে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন, তবু পিছু হটছেন না।
ক্রিকেটে আমরা অনেক ‘ব্রেভ ইনিংস’ দেখেছি, কিন্তু এটা একেবারে অন্যরকম। ওটা ছিল বাভুমার মনের জোরের গল্প। মাঠে থেমে থেমে তাঁর পায়ে টান পড়লেও, মনের দিক থেকে তিনি ছিলেন অটল। এমন পরিস্থিতিতে কেউ সহজেই ‘রিটায়ার হার্ট’ হতে পারতেন। কিন্তু বাভুমা চাননি দলের মনোবল ভাঙুক।
মার্করামের সেঞ্চুরি আর বাভুমার সাহসের মিশেলে তৈরি হল অবিচ্ছিন্ন ১৪৩ রানের জুটি। আর তাতেই দক্ষিণ আফ্রিকা ছুঁয়ে ফেলল সেই শিরোপা, যেটা এতদিন শুধু স্বপ্ন ছিল।
এই জয় শুধু একটা ম্যাচ জেতা নয়, একটা দলের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া। আর বাভুমা? তিনি এখন শুধু একজন অধিনায়ক নন—প্রোটিয়া ক্রিকেটের সাহস আর সংকল্পের প্রতীক।
লর্ডসের মঞ্চে তিনি দেখিয়ে দিলেন, চোট কখনও চ্যাম্পিয়নকে থামাতে পারে না।
