উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ইরান-ইজরায়েল সংঘাত। মধ্যরাত থেকে একে অপরের বিরুদ্ধে একের পর এক মিসাইল ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তেহরানের দিকে ধেয়ে গিয়েছে একের পর এক বিমান। তবে সংঘাতের শুরুতেই ধাক্কা ইজরায়েল এয়ারফোর্সে। তেহরানের আকাশসীমায় ঢুকতেই ইজরায়েলের হাতে F-35 যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে সে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। একটা নয়, একসঙ্গে দুটি যুদ্ধবিমানকে ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি ইরানের।
F-35 ইজরায়েল এয়ারফোর্সের হাতে থাকা অন্যান্য যুদ্ধবিমানগুলির মধ্যে একটি। পঞ্চম প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমান আমেরিকায় তৈরি। একেবারে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে। F-35-এ একাধিক অ্যাডভান্সড ফিচার যেমন আছে, তেমনই প্রযুক্তি নির্ভরও বটে। শুধু তাই নয়, বিশ্বের অন্যতম দামী যুদ্ধবিমান এটি। প্রতিটি ইউনিটের দাম আনুমানিক ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ভারতীয় মুদ্রায় ৭০০ কোটি টাকা।
অর্থাৎ ইরান যদি দুটি F-35 যুদ্ধবিমান ধ্বংস করে তাহলে সংঘাতের শুরুতেই বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে ইজরায়েল। এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ময়দানে নেমে প্রথমদিনেই ১৪০০ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে জেরুজালেম। তেহরানের এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, যুদ্ধবিমানগুলি ইরানের আকাশে ঢোকা মাত্র সেগুলিকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ডিটেক্ট করে এবং গুলি করে মুহূর্তে ধ্বংস করে। এক পাইলটকে জীবন্ত পাকড়াও করা হয়েছে বলেও দাবি ওই সংবাদমাধ্যমের। যদিও এই বিষয়ে ইজরায়েলের তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
একেবারে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। ইরানের বিরুদ্ধে প্রত্যাঘাত হানার সময় RAAM (F-15I), SOUFA (F-161) এবং ADIR (F-35) যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে ADIR বা F-35 কার্যত রেডারে ধরাই পড়ে না। আকাশে একে ছুঁতে পারে না কেউ। একেবারে শব্দের গতিতে শত্রুর দিকে ধেয়ে যাওয়ার ক্ষমতা আছে এই যুদ্ধবিমানের।
প্রতিটি F-35 যুদ্ধবিমানে একটি আসন থাকে। নিশানায় আঘাত করার দক্ষতা প্রবল। এটিকে প্যান্থা নামেও ডাকা হয়। জানা যাচ্ছে, ইরানের উপর হামলায় অন্তত ২০০ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে ইজরায়েল। বলে রাখা প্রয়োজন, শুক্রবার থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন লায়ন’ অভিযান শুরু করেছে সে দেশ।
