উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ থেকে গুপ্তকাশী ফেরার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে হেলিকপ্টার। গৌরিকুণ্ড ও সোনপ্রয়াগের মাঝে একটি জঙ্গলে ভেঙে পড়ে হেলিকপ্টারটি। দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা সাত জনই প্রাণ হারান। মৃতদের মধ্যে ছিলেন ছ’জন তীর্থযাত্রী এবং হেলিকপ্টার চালক। এদের মধ্যে ছিল একটি ২৩ মাসের শিশু।
উত্তরাখণ্ড সিভিল অ্যাভিয়েশন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির তরফে জানানো হয়েছে, সকাল ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় আবহাওয়া খারাপ হয়ে গিয়েছিল। কেদারনাথ দর্শন শেষে ফেরার পথে হেলিকপ্টারটি উপত্যকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন চালক, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।
গাড়ওয়াল কমিশনার বিনয়শঙ্কর পাণ্ডে জানান, মৃতদের মধ্যে একজন বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির কর্মী। বাকিরা উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটের বাসিন্দা। মহারাষ্ট্রের য়াববৎমাল জেলার জয়সওয়াল পরিবারের তিন সদস্য রাজকুমার জয়সওয়াল, শ্রদ্ধা জয়সওয়াল এবং তাঁদের ২৩ মাসের কন্যা কাশী এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজন গ্রামবাসী, যারা গবাদি পশুর জন্য ঘাস সংগ্রহ করতে বেরিয়েছিলেন, দুর্ঘটনাস্থলে হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ে থাকতে দেখেন এবং প্রশাসনকে খবর দেন। সকাল ৭টার মধ্যে এনডিআরএফ ও এসডিআরএফ-এর দল গৌরিকুণ্ডে পৌঁছে যায়। সেখান থেকে দুর্ঘটনাস্থলের দিকে হাঁটা শুরু করে তারা। সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে উদ্ধার কাজ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত দুইটি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে।
দেহগুলি এতটাই পুড়ে গিয়েছে যে, সেগুলিকে শনাক্ত করা কঠিন। তাই ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানান আইজি রাজীব স্বরূপ। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ বলে উল্লেখ করে এক্স হ্যান্ডেলে শোকপ্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘হেলিকপ্টার পরিষেবা পরিচালনার জন্য আরও কঠোর মানদণ্ড ও নিয়ম তৈরি করা হবে। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, হেলিকপ্টারের টেকনিক্যাল পরীক্ষা এবং আবহাওয়ার সঠিক তথ্য না নিয়ে যেন কোনোভাবেই ফ্লাইট অনুমতি না দেওয়া হয়।’
এছাড়াও, একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই দুর্ঘটনার তদন্ত করবে এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো।
উল্লেখ্য, ২ মে কেদারনাথ ধামের দরজা খোলার পর থেকে এই নিয়ে ছয় সপ্তাহে পাঁচটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও ৭ জুন একটি হেলিকপ্টার টেক অফ করার পর প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে হাইওয়েতে জরুরি অবতরণ করে। যদিও সেবারে বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনাটি ফের হেলিকপ্টার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
