পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমশ চড়ছে উত্তেজনার পারদ। রবিবারও ইরান এবং ইজরায়েল একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। তেহরানের একাধিক শহরকে লক্ষ্য করে লাগাতার হামলা চলছে। এখনও পর্যন্ত সে দেশে দু’শোরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তেহরানে আটকে বহু ভারতীয় পড়ুয়া। ইতিমধ্যে তাঁদের উদ্ধারে লাগাতার ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ভারত। একই সঙ্গে ভারতীয় নাগরিক এবং কূটনীতিকদের সরিয়ে নিয়ে আসার আবেদন জানানো হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে সব রকম ভাবে ভারতকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে দেশের সমস্ত বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে স্থল সীমান্ত খোলা। সীমান্ত পার করার ক্ষেত্রে সব রকম সাহায্যের আশ্বাসও দিয়েছে তেহরান। এ জন্য সে দেশে বসবাসকারীদের নাম, পাসপোর্ট নম্বর এবং যে গাড়িতে সীমান্ত পার করবেন, সেই সংক্রান্ত সমস্ত নম্বর ভারতের কাছে চাওয়া হয়েছে। এমন কী কোন সময় তাঁরা ইরান ছাড়তে চান, সেই সংক্রান্ত তথ্যও চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, শতাধিক পড়ুয়া আটকে সেখানে। তেহরানের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া এক ভারতীয় ছাত্র জানিয়েছেন, ‘বিস্ফোরণের সবদ্যা রাতে ঘুম ভেঙে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বেসমেন্টে ছুটে যাই।’ তাঁর কথায়, ‘রাতের পর রাত জেগে থাকছি। শুলেও ঘুম হচ্ছে না। খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি। দ্রুত আমাদের উদ্ধার করুন।’
জম্মু-কাশ্মীরের কুপওয়ারার বাসিন্দা মেহিদিন ইরানে ডাক্তারি পড়তে গিয়েছেন। ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে রাত কাটছে তাঁরও। এক সংবাদমাধ্যমকে ফোনে মেহিদিন জানিয়েছেন, স্টুডেন্ট হস্টেলের কিছুটা দূরেই প্রবল বিস্ফোরণ হয়। প্রত্যেক রাতে যে ভাবে বিস্ফোরণ হচ্ছে, তাতে কানপাতা যাচ্ছে না। তিন রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন। মেহিদিনের কথায়, ‘ডাক্তার হতে এসেছিলাম, এখন প্রাণে বেঁচে ফিরতে চাই।’
