তিনি এলেন, বৈঠক করলেন এবং জয় করলেন। জি৭ সম্মেলনে গিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্কের এমন বার্তাই দিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত বছর জাস্টিন ট্রুডো সরকারের আমলে প্রায় তলানিতে চলে যাওয়া সম্পর্কের পুনর্গঠনের আশায় এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী বৈঠকে ভারত-কানাডা সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ব্যখ্যা করে মোদী একসঙ্গে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করার কথা জানান। অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দফতরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে নরেন্দ্র মোদী ও মার্ক কার্নি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আইন-শাসনের প্রতি আস্থা সহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে ভারত-কানাডা সম্পর্কের গুরুত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে।
ভারত জি৭-এর সদস্য না হলেও কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নির আমন্ত্রণেই আলবার্টায় পৌঁছোন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এই আমন্ত্রণ কানাডার তরফে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত হিসেবেই ধরা হচ্ছে। মোদীকে স্বাগত জানিয়ে কার্নি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানানো অত্যন্ত সম্মানের।” তিনি আরও জানান, “আমরা একসঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এগিয়ে যাব।”
২০২৩ সালে খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জারের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর এটিই নরেন্দ্র মোদির প্রথম কানাডা সফর। সেই সময় ক্ষমতায় থাকা কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এই হত্যার পেছনে ভারতীয় গুপ্তচরদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন। যদিও ভারত এই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং পাশাপাশি ট্রুডো সরকারকে কানাডার মাটি থেকে খালিস্তানপন্থী কার্যকলাপ মদত দেওয়ার অভিযোগ তোলে। এর জেরে ভারত কানাডা থেকে হাইকমিশনার ও পাঁচজন কূটনীতিককে দেশে ফিরিয়ে আনে এবং পাল্টা কানাডার সমসংখ্যক প্রতিনিধিকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এদিনের বৈঠকের পর নাগরিক ও ব্যবসায়িক পরিষেবা পুনরায় স্বাভাবিক করতে ভারত ও কানাডা নতুন হাইকমিশনার নিয়োগে সম্মত হয়েছে। জি৭ সম্মেলনের ফাঁকে দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠককে দু- দেশের মধ্যে বরফ গলার সম্ভাবনার প্রথম ধাপ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
Leave a comment
Leave a comment
