গরু পাচারের অভিযোগে দুই যুবককে বেধড়ক মার! তাতেই মৃত্যু হল এক যুবকের! অন্য জন ভর্তি হাসপাতালে। গত ৫ জুন গভীর রাতে, বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের রায়সেন জেলার মেহগাঁওতে গরু পাচারের অভিযোগে দুই যুবককে ধরে মারধর করে একদল গোরক্ষা কর্মী। তাঁদের মধ্যে জুনাইদ নামের এক যুবক ১৭ জুন সকালে মারা যান। আরেকজন এখনও গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন বলে খবর।
জানা গেছে, ৫ জুন গভীর রাতে ছয় থেকে দশটি গরু নিয়ে যাচ্ছিলেন ওই দুই যুবক। পথে মেহগাঁও মন্দিরের কাছে তাঁদের থামায় একদল ব্যক্তি। নিজেদের গোরক্ষা দলের সদস্য বলে দাবি করে ওই দুই যুবকের ওপর শুরু হয় ব্যাপক মারধর। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই যুবককে এতটাই মারধর করা হয় যে, ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন তাঁরা। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে ধরা পড়েছে সেই দৃশ্য। পরে পুলিশ এসে আহতদের উদ্ধার করে ভোপালের হামিদিয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। দু’জনকেই আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়। জুনাইদকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে মৃত্যু হয় তাঁর। অন্য যুবকের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
ঘটনার পর একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে ধ্রুব চতুর্বেদী নামে এক ব্যক্তি বলেন, “আমরা খবর পাই যে গরুগুলি মেহগাঁও মন্দিরের কাছে বাঁধা রয়েছে। গাড়িটি ধাওয়া করার সময় আমাদের ওপর পাথর ছোঁড়া হয়। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গরুগুলিকে বাঁচিয়েছি।” একটি অন্য ভিডিয়োতে দেখা যায়, স্থানীয় পুলিশ অফিসার আনন্দী লাল সূর্যবংশী ধ্রুবকে কড়া ভাষায় সতর্ক করছেন, “তুমি ড্রাইভারকে যে ভাবে মারধর করেছো, সেটা ভুল। আইন নিজের হাতে নেওয়া চলবে না।”
জুনাইদের বাবা সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমার ছেলে দিনমজুরের কাজ করত। গরু পাচারের অভিযোগ থাকলে, তার আইনি তদন্ত হওয়া উচিত ছিল। কিসের ভিত্তিতে ওকে মেরে ফেলা হল? আমরা কেমন দেশে বাস করছি?” সাঁচি থানার অফিসার নীতিন অহিরওয়ার জানান, ইতিমধ্যে তিন থেকে চার জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখনও দশ জনের বেশি পলাতক! তাদের সন্ধানে বিদিশা-সহ আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় খুনের চেষ্টা ও অস্ত্রসহ হানাহানির অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়েছে।
