শেখ হাসিনার জমানা চলে গেলেও নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তৈরি হওয়া ঐক্যমত্য কমিশনেই নানা ইস্যুতে একমত হতে পারছে না বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম পর্বের আলোচনায় মৌলিক সংস্কারের যেসব প্রস্তাবে ঐকমত্য হয়নি, সেগুলো নিয়েই দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা শুরু হয়েছে রাজধানী ঢাকায়। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, সংবিধান, রাষ্ট্রের মূলনীতি ইত্যাদি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে বুধবার জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠন ও রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়নি।
বাংলাদেশে জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল বা এনসিসি গঠনের প্রস্তাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামী, এবি পার্টিসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল সমর্থন জানালেও তা নিয়ে সহমত হল না বিএনপি। বুধবারই ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় এনসিসি গঠনের প্রস্তাবটি প্রাধান্য পায়।প্রধান নির্বাচন কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্যদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদগুলোতে নিয়োগ তদারকি করতে স্বাধীন সংস্থা হিসেবে কাজ করবে এনসিসি।
সংস্কারের জন্য ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় ক্রমেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ প্রবল হচ্ছে। ইউনূসের লন্ডন বৈঠক নিয়ে ক্ষুব্ধ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আলোচনায় যোগ দিলেও নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলেছে। তাদের অভিযোগ অন্তর্বর্তী সরকার ও ঐকমত্য কমিশন বিএনপির দিকে। গত ১৩ জুন লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সংস্কার ও বিচারের অগ্রগতি সাপেক্ষে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে পারে। জামায়াত যৌথ বিবৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছে যে প্রধান উপদেষ্টা একটি দলের প্রতি বিশেষ অনুরাগ প্রকাশ করছেন, যাতে তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
বুধবার ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, তার দল চায় না যে এনসিসি গঠন করা হোক। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, সংস্কারে বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার দিকে জোর দেওয়া উচিত। খালেদা জিয়ার দলের দাবি সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এরকম কাউন্সিলের কাজ কেমন হবে তা প্রমাণিত নয়। বিএনপির দাবি, সাংবিধানিক ব্যবস্থায় যে কোনও এক্সপেরিমেন্ট হিতে বিপরীত হতে পারে। এর মাধ্যমে সাংবিধানিক পদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অচলাবস্থা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।এর জবাবে এনসিপি অভিযোগ করে যে বিএনপি তাদের অবস্থান বদলে ফেলছে। এবি পার্টির দাবি এনসিসি গঠনে সমর্থন দেওয়াটা নৈতিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে। নাহলে গণঅভ্যুত্থানের মূল ভাবনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।তবে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মতে এনসিসির এই সময়ে অপ্রয়োজনীয়। এসব করা মানে জাতীয় নির্বাচন বিলম্ব করা। যেসব রাজনৈতিক দল এটা করতে চায় তাদের জনগণের ম্যান্ডেটই তা করা উচিত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
