সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
বাঁ হাতের তর্জনীর বদলে বাঁ হাতের মধ্যমায় ভোটের কালি লাগিয়েছেন থার্ড পোলিং অফিসার। তাও আবার কালীগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী আশিস ঘোষের হাতে কালি লাগানোর ক্ষেত্রেই এই ভুল করেছেন থার্ড পোলিং অফিসার। কালিগঞ্জ বিধানসভার দেবগ্রাম অন্নপূর্ণা প্রাথমিক বিদ্যালয় এর ১৭৩ নম্বর বুথের ঘটনা। সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি নিয়ে ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের পক্ষ থেকে ঘটনার সত্যতা জানতে চেয়ে রিপোর্ট তলব করা হয় নদীয়ার জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিকের কাছে। দেবগ্রাম অন্নপূর্ণা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঠিক কি হয়েছিল এবং কেন থার্ড পোলিং অফিসার নিয়মবিরুদ্ধ কাজ করলেন। তা রিটার্নিং অফিসারের কাছে জানতে চান ডিইও। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে রিপোর্ট পাঠান কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার কৃষ্ণনগরের মহকুমাশাসক। রিপোর্টে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়ে এ ঘটনায় থার্ড পোলিং অফিসার ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। রিটার্নিং অফিসারের এই রিপোর্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা নদীয়ার জেলাশাসকের মাধ্যমে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে পাঠানো হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, একাধিক বার প্রশিক্ষণ এবং কমিশনের নানা গাইডলাইন থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা একজন প্রার্থীর আঙ্গুলে কালি লাগানোর ক্ষেত্রে থার্ড পোলিং অফিসারের ‘ভুল’ কতটা মার্জনীয়? সাংবিধানিক ব্যবস্থাপনায় গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে এ ধরনের ভুল ‘অনিচ্ছাকৃত’ হলেও তা শাস্তিযোগ্য, এমনটাই মনে করছেন প্রশাসনিক অধিকারিকরা। নিদেনপক্ষে ওই থার্ড পোলিং অফিসারকে শো-কজ করে ব্যাখ্যা চাইতে পারে কমিশন। এমন কি কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। আর এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই যে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেধেছে তা বলাই বাহুল্য।
