পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার বদলার দাবিতে ফুঁসছিল গোটা দেশ। হঠাৎ করে ৬ এবং ৭ মে মধ্যরাতে পাকিস্তানের মাটিতে অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালায় ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেই ঘটনার কয়েকদিন কেটেছে। এবার শিরোনামে ‘অপারেশন সিন্ধু’ অনেকেই চমকে যাচ্ছেন। আবার অভিযান! কেউ কেউ আবার নামবিভ্রাটেও জড়িয়ে পড়ছেন। কিন্তু কী এই ‘অপারেশন সিন্ধু’? কেনই বা প্রয়োজন পড়ল এই অভিযানের? বিশেষ করে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে।
অপারেশন সিঁদুর এবং অপারেশন সিন্ধু’র মধ্যে পার্থক্য কোথায়?
অপারেশন সিঁদুর এবং অপারেশন সিন্ধু সম্পূর্ণ আলাদা। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার বদলা নিতে পাকিস্তানের মাটিতে অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালায় ভারতীয় সেনা। সম্পূর্ণ ভাবে একটি সামরিক অপারেশন। কিন্তু অপারেশন সিন্ধু সম্পূর্ণ আলাদা। ইজরায়েল এবং ইরান যুদ্ধে তেহরানে আটকে পড়া ভারতীয়দের উদ্ধারে বিশেষ এই অভিযান শুরু করেছে ভারত। ১৮ জুন অর্থাৎ বুধবার থেকে বিশেষ এই অপারেশন চালাচ্ছে বিদেশমন্ত্রক।
অপারেশন সিন্ধুর প্রয়োজনীয়তা কেন?
ইরানের একাধিক শহরকে লক্ষ করে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে ইজরায়েল। এমনকী এই যুদ্ধে আমেরিকাও জড়াতে পারে বলে আশঙ্কা। আর এর মধ্যে ইরানে আটকে পড়েছেন বিশ্বের একাধিক দেশের নাগরিকরা। যুদ্ধ বিধ্বস্ত সে দেশে আটকে বহু ভারতীয়ও। যার মধ্যে বড় একটা অংশ পড়ুয়া রয়েছে বলে খবর। আতঙ্ক দিন কাটছে। মধ্যরাতে চোখের সামনে আছড়ে পড়ছে মিসাইল। কাটছে একের পর বিনিদ্র রাত। ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার কথা ভেবে দ্রুত ইরান থেকে তাঁদের উদ্ধার করতে অপারেশন সিন্ধু অভিযান শুরু করেছে।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই মুহূর্তে অন্তত ১৩ হাজার পড়ুয়া ইরানের বিভিন্ন জায়গায় আটকে রয়েছেন। যদিও এর মধ্যে বুধবার রাতে ১১০ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে দেশে। বাকিদের উদ্ধারেও চলছে ভারতের বিশেষ অভিযান।
কেন নাম সিন্ধু?
অপারেশন সিঁদুরের পর অপারেশন সিন্ধু! কিন্তু কেন এই নাম? যদিও এই বিষয়ে সরকারি কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইতিহাসবিদদের কথায়, সিন্ধু একটি নদীর নাম। সংস্কৃত ভাষায়, ‘সিন্ধু’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘নদী’ বা ‘সমুদ্র’। ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রধান নদী সিন্ধু নদীর নামও। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভারতের নামটাও এসেছে সিন্ধু থেকে। পার্সিরা সিন্ধুকে হিন্দু বলে উচ্চারণ করতেন। গ্রিক ও ল্যাটিন ব্যবহারে সেই নামটাই হয়েছে ইন্ডিয়া। তবে এক্ষেত্রে নাম নয়, যুদ্ধ বিধ্বস্ত তেহরান থেকে ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধার মূল টার্গেট। নামটি প্রতীকী বলেই মনে করা হচ্ছে।
কীভাবে চলবে এই অভিযান?
গত কয়েকদিন আগেই তেহরান জানায়, আকাশপথ বন্ধ থাকলে স্থল সীমান্তগুলি খোলা। আর এরপরেই ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধারে পরিকল্পনা সাজিয়েছে ভারত। জানা যাচ্ছে নর্দান ইরান (যেমন, উর্মিয়া) থেকে আর্মেনিয়ায় স্থলপথে নাগরিকদের নিয়ে আসা হতে পারে। এরপর রাজধানী ইয়রেভান থেকে নয়াদিল্লি পর্যন্ত চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা রাখতে পারে ভারত। এছাড়াও বিকল্প করিডোরের ব্যবস্থাও খোলা থাকছে বলে খবর। এক্ষেত্রে তুর্কমেনিস্তানের মধ্য দিয়ে ট্রানজিট রুট তৈরি করা হতে পারে বলে খবর।
