সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
হুগলির দেবানন্দপুরে কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মস্থান দেবানন্দপুর গ্রামকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে তৈরি করতে চায় রাজ্য সরকার। এ জন্য রাজ্য সরকার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলে জানান রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী তথা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এ কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “দেবানন্দপুর পঞ্চায়েত এলাকাকে পর্যটকদের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলে কথাশিল্পীর জন্মস্থান হিসেবে স্মৃতিবিজরিত পৈতৃক ভিটের সংস্কার এবং মানোন্নয়নের কাজ দফতরের বিবেচনায় রয়েছে।”
যদিও দেবানন্দপুর গ্রামকে অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনা নতুন নয়। এর আগেও এ ধরনের পরিকল্পনার কথা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। যদিও এখনও পর্যন্ত কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে দাবি করেছেন বিরোধীপক্ষের বিধায়করা। বিরোধীদের বক্তব্য, ‘মনীষীদের নাম ভাঙিয়ে শাসকপক্ষের রাজনীতি করার কৌশল বরাবরের। কাজের কাজ কিছু করে না।’ এ দিন বিধানসভার উল্লেখ পর্বে বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বসতবাড়ি ভেঙে ফেলা নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলেন। বিজেপি বিধায়কের এই অভিযোগের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়ে ইন্দ্রনীল বলেন, “এমনটা হওয়া উচিত ছিল না। রাজ্য মনিষীদের স্মৃতি বিজড়িত জায়গাগুলি সংরক্ষণের জন্য তথ্য ও সংস্কৃতি রক্ষায় সর্বদা সজাগ। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি মালিকানার সমস্যা থাকায় কিছু করা যায়নি।” তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে বা দফতরের নজরে এলে তা নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন মন্ত্রী। অবশ্য বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধিতা করলেও রাজ্যের পর্যটনে উন্নয়নের কথা স্বীকার করেন ও মান্যতা দেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক তথা বিরোধী দলের মুখ্যসচেতক শঙ্কর ঘোষ।
পর্যটন ও উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রশ্ন-উত্তর শেষের পর প্রসঙ্গে আসে আমতার পান্তুয়া। আমতার এই জনপ্রিয় মিষ্টি যাতে জিআই ট্যাগ পায় তা নিয়ে রাজ্য সরকারের উদ্যোগী হওয়ার আবেদন জানিয়ে বিভাগীয় মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল। তিনি বলেন, “৫০০ বছরেরও বেশি প্রাচীন বন্দর-শহর আমতা। বহু বছর আগে থেকেই আমতার জনপ্রিয় মিষ্টি পান্তুয়া। দেশে বিদেশে জনপ্রিয়। হাওড়া জেলার সমস্ত এলাকার প্রায় সমস্ত দোকানে পান্তুয়া পাওয়া যায় । রাজ্যের বেশ কিছু কৃষিজাত দ্রব্য, হস্তশিল্প ও মিষ্টি ‘জিআই ট্যাগ’ পেয়েছে আমতার জনপ্রিয় এই মিষ্টি যাতে জিআই ট্যাগ পায় সে জন্য রাজ্য সরকারের উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।”
