তামিলনাড়ুর উপকূলে ভেসে উঠল রহস্যময় এক অতিকায় মাছ! ৩০ ফুট লম্বা। আর এই মাছ ঘিরেই আতঙ্ক জেলেদের মধ্যে। রহস্যময় এই মাছকে ‘ডুমস ডে ফিশ’ বলা হয়। আবার অনেকে একে ‘ওরফিস’ও ডাকেন। গভীর সমুদ্র এই মাছের ঠিকানা। আর সেই মাছ তামিলনাড়ুর জেলেদের হাতে ধরা পড়তেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকেই এই মাছকে ‘প্রলয় মাছ’ও বলে থাকেন। কারণ এই মাছ সুনামি কিংবা ভূমিকম্পের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিয়ে থাকে।
তাহলে বড় সড় কোনও বিপদ আসতে চলেছে? তাই কি তামিলনাড়ুর জেলেদের হাতে ধরা পড়ল ‘ডুমসডে ফিশ’? বিষয়টি বিজ্ঞানীরাও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে খবর। শুধু ভারতেই নয়, চলতি বছরের মে মাস থেকে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় তিন বার রহস্যময় এই মাছ দেখা গিয়েছে। আর সেটাই চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে বিজ্ঞানী এবং পরিবেশবিদদের কাছে।
ভাইরাল ভিডিও
স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানিয়েছেন, হঠাৎ করেই মাছটি তাঁদের জালে আটকে যায়। দৈত্যকার মাছের সাইজ এবং রঙ দেখে চমকে যান মৎস্যজীবীরা। ইতিমধ্যে মাছের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে দেখা গিয়েছে, অন্তত তিন চারজন মৎস্যজীবী বিশাল আকারের মাছটিকে ধরে রয়েছেন। মৎস্যজীবীদের কথায়, তামিলনাড়ু উপকূলে জালে জড়ানো ‘ডুমসডে ফিশ’টি ৩০ ফুট লম্বা। পরিবেশবিদদের কথায়, এই মাছটি সর্বোচ্চ ১১ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।
একাধিক দেশে দেখা যায় এই মাছ
শুধু তামিলনাড়ু নয়, চলতি বছরে বিশ্বের একাধিক উপকূলে দেখা মিলেছে গভীর সমুদ্রে থাকা দৈত্যকার মাছটিকে। চলতি মাসের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়ার ওশান বিচে উদ্ধার হয় ডুমসডে ফিস। প্রায় দীর্ঘ তিন মিটার সেটি লম্বা ছিল। তবে সেটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, সমুদ্র সৈকতে হাঁটার সময় এক মহিলা মৃত ওয়ারফিশটিকে দেখতে পান। এমনকী একই সপ্তাহে নিউজিল্যান্ডের সমুদ্র তটে দুটি পৃথক ওয়ারফিশ দেখা গেছিল। এখানেই শেষ নয়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও এই মাছের দেখা পাওয়া যায়। তবে তা মেক্সিকো উপকূলে।
কী বলছেন বিজ্ঞানীরা?
২০২৪ সালের অগাস্ট মাসের একটি ঘটনাকে উল্লেখ করে এক সংবাদমাধ্যমের দাবি, লস অ্যাঞ্জেলসে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার মাত্র দু’দিন আগে একটি ‘ডুমসডে ফিশে’র দেখা মিলেছিল। যেটি ছিল প্রায় ১২ ফুটের। আর এই ঘটনা ঘিরে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। তাহলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত মিললেই উপরে উঠে আসে এই মাছ? যদিও বিজ্ঞানীদের একাংশ বলছেন, রহস্যময় এই মাছের সন্ধান তখনই পাওয়া যায় যখন সেটি অসুস্থ থাকে, কিংবা প্রজননের সময়েও উপরে উঠে আসে।
এক নজরে ‘ডুমসডে ফিশ’?
ওরফিশ হল ফিতের মতো একটি মাছ। সমুদ্রের ২০০ থেকে ১০০০ মিটার গভীরতায় থাকে। এই মাছগুলি ৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। মানুষের কোনও ক্ষতি করে না। সাধারণত সমুদ্রের ছোট মাছ খেয়ে বড় হয়।
জাপানি প্রবাদ অনুসারে এই ওরফিশের দেখা মিললে নাকি ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সুনামিরও ইঙ্গিত দেয় এটি। এর যদিও কোনও বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ নেই। তবে কোনও কোনও গবেষক বলেন, ভূমিকম্প হলে অন্য প্রাণীর তুলনায় দ্রুত বুঝতে পারে ওর ফিশ। গভীর সমুদ্রে থাকার কারণেই এটা সম্ভব হয় বলে মনে করা হয়।
