কোনোভাবেই থামছে না ইজরায়েল-ইরান সংঘাত। বৃহস্পতিবারও পরস্পরের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল ও ইরান। শুক্রবার সকালেই ইজরায়েলের দক্ষিণে বিরশেবাতে মাইক্রোসফটের অফিসের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে হতাহতের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিরও খবর পাওয়া গেছে। এমন এক পরিস্থিতিতেই ইরানকে থামাতে বৈঠকে বসতে চলেছে ইউরোপীয় নেতারা।শুক্রবারই জেনিভায় ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিকদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু বৈঠকে অংশ নিতে চলেছে ইরান।
একদিকে ইজরায়েলের হামলা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি আর অন্যদিকে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের অনমনীয় মনোভাব পশ্চিম এশিয়াকে এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছে বিশ্ব নেতারা। ইজরায়েল ও ইরান লড়াই ঘিরে ক্রমেই দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছে বিশ্ব। ট্রাম্প ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেও সেই হুঁশিয়ারিকে পাত্তা দিতে নারাজ ইরানের সুপ্রিম লিডার। তাঁর দাবি পরমাণু অস্ত্র তৈরি নিয়ে মিথ্যে অভিযোগ তুলে ইরানের উপর হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। সেই হামলা বন্ধ না হলে ইজরায়েলের উপর আক্রমণ থামাবে না তেহরান। ইরান কারও কাছে মাথা নত করবে না বলেই জানিয়ে দিয়েছেন খামেনেই।
এমন পরিস্থিতিতে ইজরায়েলের পাশে দাঁড়ালেও আলোচনার মাধ্যমে পথ খোঁজার চেষ্টা করছে আমেরিকা ও ইউরোপ। ফ্রান্স জানিয়েছে এই আলোচনার লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে স্থায়ীভাবে পিছিয়ে আনা। ব্রিটেনের বিদেশমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি জানিয়েছেন, “আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি— ইরানের কখনওই পরমাণু অস্ত্র থাকা উচিত নয়।” পরিস্থিতি ইজরায়েলের পক্ষে হলেও সমাধানসুত্র খুঁজতে জেনিভায় ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানির বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকরা থাকলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই বৈঠকে যোগ দেবে কিনা তা নিশ্চিত নয়। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এ যুদ্ধে আমেরিকা জড়াবে কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্প আগামী দু সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন। কাজেই আলোচনার মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ায় চলা ভয়াবহ পরিস্থিতি থামাতে উদ্যোগ নিচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলো।
