কালো টাকা উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদীর সরকার। কিন্তু বাস্তবচিত্র বলছে অন্য কথা। মোদী জমানায় সুইস ব্যাঙ্কে ভারতীয়দের গচ্ছিত পুঁজির পরিমাণ লাফিয়ে বেড়ে গেছে। ২০২৪ সালে তা প্রায় তিনগুণ বেড়ে প্রায় ৩৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানাল সুইস ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে ব্যাঙ্ক।
সুইস ব্যাঙ্কের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের পর ফের সর্বোচ্চ পরিমাণ ভারতীয় অর্থ জমা হয়েছে ২০২৪ সালে। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, ওই টাকার মধ্যে ১০ শতাংশ এসেছে সরাসরি গ্রাহকদের মারফত। যার পরিমাণ ৩ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা। কিন্তু বাকি টাকা ব্যাঙ্কের স্থানীয় শাখা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান মারফত জমা পড়েছে সুইস ব্যাঙ্কে। তবে ২০২৩ সালে সুইস ব্যাঙ্কে ভারতীয়দের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণে ব্যাপক পতন দেখা গিয়েছিল।
২০২৩ সালের হিসেব অনুযায়ী, সুইস ব্যাঙ্কে ভারতীয়দের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণে প্রায় ৭০ শতাংশ পতন হয়েছিল। তবে সুইস ব্যাঙ্কের দাবি, ২০২৪ সালের জমা পড়া প্রায় ৩৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকার যে গোটাটাই তথাকথিত কালো টাকা, এমনটা নয়। তাছাড়া ওই টাকার মধ্যে কোনো তৃতীয় পক্ষের থেকে আসা টাকার পরিমাণও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
২০০৬ সালে সর্বকালের সেরা পরিমাণ ভারতীয় অর্থ জমা পড়েছিল সুইস ব্যাঙ্কে। সেবারে প্রায় ৬৯ হাজার কোটি টাকা জমা পড়েছিল। তারপর থেকে অবশ্য গচ্ছিত টাকার পরিমাণ কমেছে। তবে ব্যাতিক্রম ২০১১, ২০১৩, ২০১৭, ২০২০, ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালগুলি।
তবে সুইস ব্যাঙ্কে গচ্ছিত আমানতের নিরিখে গোটা বিশ্বে ভারতের স্থান ৪৮-এ। গত বছর ৬৭-তে ছিল সেই স্থান। ২০২২ সালে তা ছিল ৪৬-এ। তবে শীর্ষে রয়েছে আমেরিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের গচ্ছিত অর্থও কম নয়। বাংলাদেশের প্রায় ৬ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ও পাকিস্তানের ২ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা গচ্ছিত রয়েছে সুইস ব্যাঙ্কে।
