দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজে দলীয় কর্মীদের দেখতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। এ বার তাকে স্বাধিকার ভঙ্গের শামিল বলে দাবি করে চিঠি লিখলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে। বাংলার পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধেও ইচ্ছাকৃত নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করেছেন সুকান্ত।
স্পিকারকে লেখা চিঠিতে সুকান্ত লিখেছেন, গত ১৯ জুন তিনি ডায়মন্ড হারবার লোকসভার অন্তর্গত বজবজে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। ঘটনাচক্রে, যে এলাকা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের মধ্যে পড়ছে। সেই সময় তাঁর কনভয় ঘিরে ধরে হামলা চালায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। গাড়ি ভাঙচুর হয়। সুকান্তের আরও দাবি, তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন মার খান তৃণমূলের গুন্ডাদের হাতে। হামলায় তাঁর প্রাণহানি ঘটতে পারত বলেও ওম বিড়লাকে লিখেছেন সুকান্ত। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, সেই সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ সুপার হাজির থাকা সত্ত্বেও কিছুই করা হয়নি। পুলিশ বোবা-কালার ভূমিকা পালন করেছিল। সুকান্তের দাবি, পুলিশ যখন কিছুই করছে না, তখন তাঁর নিরাপত্তার জন্য থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী সবাইকে বাঁচায়। এই ঘটনাকে সাংসদের অধিকার ভঙ্গ হিসেবে দেখছেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি। ওম বিড়লার কাছে বিষয়টি জানিয়ে প্রতিকারের আর্জি জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুন বজবজ ১ নম্বর বিডিও অফিসের সামনে বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের গোলমাল লেগে যায়। বিজেপির দাবি, তৃণমূল তাদের কর্মী-সমর্থকদের মারধোর করে। তাতে কয়েক জন বিজেপি কর্মী আহত হন। তৃণমূলও পাল্টা অভিযোগ করে। পর দিন, বৃহস্পতিবার সুকান্ত কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে বজবজ চলে যান। সেখানেই সুকান্তকে ঘিরে ধরে চোর-চোর স্লোগান ওঠে। ১০০ দিনের কাজের টাকা কেন কেন্দ্র আটকে রেখেছে তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে। বিজেপির দাবি, বিক্ষোভকারীরা সকলেই তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত। সুকান্তের গাড়ি লক্ষ্য করে চপ্পল, ঢিল ছোঁড়া হয় বলেও দাবি। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োতে গাড়ির মধ্যে বসে সুকান্তকেও পাল্টা জবাব দিতে শোনা গিয়েছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করা যায়নি। এ বার এই ইস্যুতেই লোকসভার স্পিকারের দ্বারস্থ হলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
