সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। একে অপরের বিরুদ্ধে ধেয়ে যাচ্ছে একের পর এক মিসাইল। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ইরান এবং ইজরায়েল দুই দেশেই ক্রমশ বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এই অবস্থায় যুদ্ধে আমেরিকা জড়ালে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে দু’দেশের মধ্যে চলা সংঘাত উদ্বেগ বাড়াছে ভারতের। তেহরানে চাবাহার বন্দরে একটা বড় বিনিয়োগ রয়েছে। আর তা প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ডলার(ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৭৭১ কোটি টাকা)।
এই বন্দর বাণিজ্যের দিক থেকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই কৌশলগত ভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। পাকিস্তানকে এড়িয়ে এই বন্দরকে ব্যবহার করে ভারত খুব সহজেই আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ায় পৌঁছে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে। এমনকী রাশিয়া পর্যন্ত পণ্য পরিবহণ চালাতে নয়াদিল্লি। কিন্তু যেভাবে ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত বাড়ছে তাতে বিপদের মুখে চাবাহার বন্দরও। শুধ তাই নয়, ইন্টারন্যাশানাল নর্থ সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডরের উপরেও কড়া নজর নজর রাখছে ভারত। যদিও এখনও পর্যন্ত ইরানের কোনও বন্দরকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেনি ইজরায়েল।
১০ বছরের চুক্তি
চাবাহার বন্দর নিয়ে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে ভারত। গত বছর সেই চুক্তি হয়। আর সেই অনুযায়ী ১০ বছর চাবাহার বন্দর পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে ভারত। আর এই চুক্তির আওতায় দেশের সংস্থা ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড চাবাহারের বড় দায়িত্বে রয়েছে। এর আগে আদানির হাতে ছিল এই বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ভারত চাবাহার বন্দরের উন্নয়নে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে। শুধু তাই নয়, বন্দরের একটি টার্মিনালের উন্নয়নের জন্য ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও বার্থ আপগ্রেডেশনের জন্য ৮৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ। আলাদা ভাবে চাবাহার-জাহেদান রেলপথের জন্য ৪০০ মিলিয়ন ডলারের লাইন অফ ক্রেডিট দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ভারত চাবাহার পোর্ট প্রজেক্টের জন্য ৫৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে রেখেছে। আর সেখানেই যদি কোনও ভাবে ইজরায়েলের মিসাইল আছড়ে পড়ে তাহলে মুহূর্তে সব শেষ। জলে যাবে ভারতের বিশাল অঙ্কের এই বিনিয়োগ।
