বিজ্ঞানের ‘অভিশাপ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিপফেক। এই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে যে কোনও মানুষকে বদলে ফেলা যাচ্ছে। আর তা যেমন খুশি। ডিপফেকের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না সেলেব দুনিয়ার তারকারা। এবার ডিপফেকের গেরোয় হিন্দি নিউজের জনপ্রিয় অ্যাঙ্কর অঞ্জনা ওম কাশ্যপ। যিনি কিনা আজতকের অ্যাংকার তো বটেই, একইসঙ্গে ম্যানেজিং এডিটরও বটে। তাঁর নামে চলা একটি ইউটিউব চ্যানেল সরাতে বলল দিল্লি হাইকোর্ট।
বিচারপতি প্রতিভা এম সিং’য়ের বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। টিভি টুডে নেটওয়ার্কের তরফে একটি মামলা হয়। তার ভিত্তিতেই দিল্লি হাইকোর্ট এই সংক্রান্ত নির্দেশ দিয়েছে। টিভি টুডে নেটওয়ার্ক মামলায় আবেদন করে, তাদের সংস্থার সম্পত্তির অপব্যবহার না করা হয়। এই বিষয়ে দিল্লি হাইকোর্টের কাছে স্থগিতাদেশ দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়।
শুনানিতে আদালতে অভিযোগ করা হয় ডিপফেক প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে ওই ইউটিউব চ্যানেল চালানো হচ্ছিল। এমনকী সেখানে ভুয়ো খবর প্রচার করা হচ্ছিল। যেখানে নিউজ প্রেজেন্টার হিসাবে অঞ্জনা ওম কাশ্যপকে দেখানো হচ্ছিল বলেও অভিযোগ।
অন্তবর্তী নির্দেশে আদালত জানিয়েছে, ওই ইউটিউব চ্যানেলটি ভুয়ো। আদালত আরও উল্লেখ করেছেন, অঞ্জনা ওম কাশ্যপের পদবী থেকে পি অক্ষরটি বাদ দেওয়ায় এটা প্রমাণিত হচ্ছে যে এটি সম্পূর্ণ ফেক পেজ। এক্ষেত্রে অঞ্জনার ভাবমুর্তি এবং জনপ্রিয়তা ব্যবহার করে এই চ্যানেলটি চালানো হচ্ছিল।
এই বিষয়ে গুগলকেও নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। যেখানে বলা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই চ্যানেলটিকে সরিয়ে ফেলতে হবে। এছাড়াও সাবস্ক্রাইবারদের সম্পর্কেও তথ্য জানতে চেয়েছে আদালত। কে এই চ্যানেলটি চালাত সেটিও খুঁজে বের করতে হবে। আর এজন্য দু’সপ্তাহ সময় আদালত বেঁধে দিয়েছে বলে খবর।
ওই ফেক ইউটিউব পেজ থেকে ঠিক কত আয় হয়েছে, সেটি জানতে চেয়েছে আদালত। একই সঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই ধরনের আর কোনও পেজ খোলা হলে তার ইউআরএল গুগলকে দিয়ে সরাতে বলতে হবে বলেও নির্দেশ হাইকোর্টের। গুগলের তরফে আইনজীবী জানিয়েছেন, পেজটি সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে অঞ্জনা ওম কাশ্যপ কেন নিজে আদালতে এলেন না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে গুগল। তবে এই মামলায় ওই সঞ্চালিকাকে পার্টি করা হবে বলেও এদিন জানিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।
