ভারতের দাবি মধ্যস্থতা হয়নি! অন্যদিকে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘাত ঠেকাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দরাজ সার্টিফিকেট দিল শেহবাজ শরীফের দেশ। ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁকে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তান সরকার অফিসিয়াল এক্স প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে জানিয়েছে, “ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক সঙ্কটে ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং নীতি নির্ধারক কমিটির জন্য এই মনোনয়ন।”
পাকিস্তানের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময়, দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশকে যুদ্ধের মুখ থেকে ফিরিয়ে আনেন ট্রাম্প। তাঁর সাহসী কূটনৈতিক উদ্যোগ আর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বের জন্যই একটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হয়।” পাকিস্তান আরও জানায়, “ট্রাম্প কেবল যুদ্ধ ঠেকাননি, তিনি কাশ্মীর ইস্যুতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রস্তাবও দেন।” বিবৃতিতে আরও লেখা হয়, “তাঁর শান্তির প্রতি দায়বদ্ধতা, কূটনীতির মাধ্যমে দ্বন্দ্ব মেটানোর চেষ্টা তাঁকে একজন প্রকৃত ‘শান্তি-প্রতীক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।” পাকিস্তানের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষত গাজা ও ইরান সংকটে, আফ্রিকায় এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ট্রাম্পের ভূমিকায় আরও অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এদিকে ট্রাম্পেরও দাবি একই। পাকিস্তানের এই মনোনয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “যাই করি না কেন, আমি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাবো না।” তিনি জানান, আফ্রিকার কঙ্গো ও রুয়ান্ডার মধ্যে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ এক অসাধারণ চুক্তির মাধ্যমে শেষ করতে চলেছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, “আমি এবং আমার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মিলে এক দারুণ শান্তিচুক্তি করিয়েছি। সোমবার ওয়াশিংটনে সেই চুক্তি সই হবে। এটা শুধু আফ্রিকার নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই এক মহান দিন।”
ট্রাম্পের দাবি, ভারত-পাকিস্তান, রাশিয়া-ইউক্রেন, ইজরায়েল-ইরান, কসোভো-সার্বিয়া এমনকি ইথিওপিয়া-মিসর সংকটেও তিনি শান্তি স্থাপন করতে চেয়েছেন। কিন্তু এত কিছুর পরেও তাঁকে কেউ কৃতিত্ব দেয় না। অভিমানী সুরে তিনি বলেন, “ওরা আমাকে নোবেল শান্তি দেবে না, কারণ আমি একজন রক্ষণশীল।”
তবে ট্রাম্পের দাবিকে নাকচ করেছে ভারত। পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রী পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত দুই দেশের সামরিক নেতৃত্বের সরাসরি আলোচনার ফল। এরমধ্যে কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা হয়নি। তিনি বলেন, “ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৩৫ মিনিটের টেলিফোনে কথা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেখানে যুদ্ধবিরতি বা কোনও আমেরিকা-ভারত ট্রেড চুক্তির আলোচনা হয়নি।” বিক্রম মিশ্রীর স্পষ্ট বার্তা, “আমরা মধ্যস্থতা কখনও গ্রহণ করিনি, ভবিষ্যতেও করব না”।
