নির্বাচন কবে? এটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। এমন পরিস্থিতিতে সঠিক সময়ের কথা না জানিয়ে নির্বাচনের তারিখ যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী আইন ও বিধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসে তিনি এই কথা জানান।প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, “এটা আপনারা যথাসময়ে জানতে পারবেন। আমরা যথাসময়ে শিডিউল ঘোষণা করব, তখন জানতে পারবেন।”
আগে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে নির্বাচন করার কথা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। পরে লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মুহাম্মদ ইউনূস জানান সব প্রস্তুতি শেষ করা গেলে ২০২৬ সালের রমজান শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহেও (ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। এই ঘোষণার পরেই ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে হওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্রুত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে আলোচনা করতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আহ্বান জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। অর্থাৎ লন্ডনে ঘোষণা হলেও নির্বাচন কমিশনার কেন তা বাস্তবে করার পথে হাঁটছে না তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
১৫ জুন ডেইলি স্টারের খবর অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে সরকার এখনো নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেনি বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। যৌথ বিবৃতি প্রসঙ্গে সিইসি জানান, ‘এ নিয়ে আমি মন্তব্য করতে পারব না,ভেতরে কি আলাপ হয়েছে।শুধু যৌথ বিবৃতি দিয়েছে, সেটা তো আন-সাইনড।এটা কতটুকু জেনুইন তাও তো জানি না।
এমন পরিস্থিতিতে শনিবারও সঠিক সময়ের বদলে ভোটের দিনক্ষণ যথা সময়ে জানানো হবে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার।স্বাধীনভাবে নয়, ভোট করতে কমিশনের ইউনূস সরকারের উপর নির্ভরতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।বলেন, “নির্বাচন ইস্যুতে সময় এলেই সরকারের সঙ্গে আলোচনা হবে। সরকার ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয়।” তিনি আরও জানান যে সরকারের সঙ্গে ফরমাল ও ইনফরমাল আলোচনা চলছে।অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশন নয়, ভোট কবে হবে তাঁর টিকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের হাতেই বাঁধা আছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
Leave a comment
Leave a comment
