অপারেশন সিঁদুর অভিযানে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ অস্ত্রে পাকিস্তানকে কুপোকাত করে ভারত। এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে একাধিক বিজেপি নেতার বক্তব্যে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র কথা। আর এই প্রকল্পকে নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন রাহুল গান্ধী। তাঁর কথায়, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এক ভিডিওতে কংগ্রেস সাংসদকে বলতে শোনা যাচ্ছে, উৎপাদন রেকর্ড সর্বনিম্নে পৌঁছে গিয়েছে। ক্রমশ বাড়ছে বেকারত্ব।
শুক্রবার দেশের সবথেকে বড় ইলেকট্রনিক্স মার্কেট নেহেরু মার্কেটে যান রাহুল গান্ধী। মোবাইল ফোন সারানো সহ বিভিন্ন কাজ ঘুরে নিজে চোখে দেখেন। একটি দোকানে বসে কথা বলেন দুই টেকনিশিয়নের সঙ্গেও। আর সেই ভিডিও নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন সোনিয়া পুত্র। তিনি বলেন, বেশিরভাগ মোবাইল এবং ইলেকট্রনিক্স প্রোডাক্ট আমদানি করা হচ্ছে এবং তা ভারতের মাটিতে শুধুমাত্র অ্যাসেম্বল করা হচ্ছে। এর সরাসরি লাভ চিন পাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রাহুল।
দোকানের দুই কর্মী শিবম এবং সইফের সঙ্গে আলোচনায় রাহুল আরও বলেন, মেক ইন ইন্ডিয়ার মাধ্যমে দেশের মাটিতে কারখানা তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেশের উৎপাদনের হার তলানিতে পৌঁছে গিয়েছে। এমনকী বেকারত্বের হারও ক্রমশ বাড়ছে বলে দাবি কংগ্রেস সাংসদের।
চিন থেকে রফতানি ক্রমশ বাড়ছে
রাহুল গান্ধি বলেন, ভারতের উৎপাদন জিডিপির হারের ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে। যা সর্বনিম্ন। লোকসভার বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, চিন থেকে রফতানির হার দিনে দিনে বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে দেশে বাড়ছে বেকারত্বের হারও। এই বিষয়ে মোদীকে আক্রমণ করে কংগ্রেস নেতার দাবি, প্রধানমন্ত্রী শুধুই শ্লোগান তুলতে পারেন, কিন্তু এর কোনো সমাধান নেই।
রাহুল আরও বলেন, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’য় তৈরি পণ্য থেকে কর্মসংস্থান তৈরি সম্ভব, তবে তা কখনওই ‘অ্যাসেম্বল’ করে হবে না। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ভারতে তৈরি আইফোনের কথা তুলে ধরেন। রাহুল বলেন, যত ইচ্ছা আইফোন অ্যাসেম্বল করা যেতে পারে, কিন্তু বড় পুঁজিপতিদের পকেটেই টাকা ঢুকছে বলে মত তাঁর।
বলে রাখা প্রয়োজন, ২০১৭ সাল থেকে ভারতের মাটিতে আইফোন অ্যাসেম্বলের কাজ করছে অ্যাপল। দুটি তামিলনাড়ু এবং একটি কর্নাটকে সংস্থার কারখানাও আছে। এই বিষয়ে বলতে রাহুল জানান, মানুষ ভাবছে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘অ্যাসেম্বলড ইন ইন্ডিয়া’ সমান। বিষয়টি একেবারেই আলাদা বলে দাবি তাঁর।
