যেকোনো মুহূর্তে ইরানে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা, কদিন ধরেই প্রবল হচ্ছিল এমন আশঙ্কা। রবিবার সকালেই গোটা বিশ্বের মানুষ জানতে পারল যে ইরানের তিনটে গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু কেন্দ্র- ফোর্দো, নাটাঞ্জ এবং এসফাহানে বোমাবর্ষণ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। টেলিভিশনে ওভাল অফিস থেকে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প জানিয়েছেন, “আমাদের বিমানগুলো অত্যন্ত সফলভাবে ইরানের প্রধান পারমাণবিক ক্ষেত্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে। ফোর্দো, নাটাঞ্জ ও এসফাহান—সবগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। এটা ছিল এক অভূতপূর্ব সামরিক সাফল্য।” তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এভাবে শক্তি প্রয়োগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
হামলার পরেই শান্তির বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেছেন,“মধ্যপ্রাচ্যের দাদাগিরি করা ইরান এখন শান্তির পথ বেছে নিক। না হলে ভবিষ্যতের হামলা আরও ভয়াবহ হবে।” ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “শান্তি না এলে আমরা আরও অনেক লক্ষ্যে আঘাত করব। সেগুলোকে মিনিটের মধ্যেই গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।”
একে ঐতিহাসিক বলেও ব্যখ্যা করেছেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প এটিকে “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং বিশ্বের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত” বলে অভিহিত করেন। তিনি জানিয়েছেন, “ইরানকে এখনই যুদ্ধ বন্ধে সম্মত হতে হবে।” তথ্য বলছে ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর এই প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানের মাটিতে আঘাত হানল।
খুব স্বাভাবিকভাবেই আমেরিকার এই হামলাকে স্বাগত জানিয়েছে বন্ধু দেশ ইজরায়েল। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মার্কিন হামলার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “ট্রাম্পের সাহসী সিদ্ধান্ত ইতিহাস বদলে দেবে। প্রথমে শক্তি, তারপর শান্তি—এই নীতিতে আজ ট্রাম্প সত্যিই নেতৃত্ব দিয়েছেন।” ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রায় দরজায় পৌঁছে গেছে – এমন অভিযোগ তুলে ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ শুরু করে ইজরায়েল। এবার সেই হামলায় নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়ালেন ট্রাম্প।
তবে অন্যরা খুশি হলেও ইরানে আমেরিকার হামলার পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব।এক্স-এ তিনি লিখেছেন, “আজ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রয়োগে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ইতিমধ্যেই উত্তেজনায় টালমাটাল একটি অঞ্চলে এ বিপজ্জনক পরিস্থিতির আরও অবনতি। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি।”
তিনি আরও লিখেছেন,“এই সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে—যার পরিণতি হতে পারে সাধারণ মানুষ, পুরো অঞ্চল এবং বিশ্বের জন্য ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক। আমি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন উত্তেজনা প্রশমনের জন্য কাজ করে এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের নিয়ম অনুসারে তাদের দায়িত্ব পালনে কাজ করে।”
হামলা,পাল্টা হামলার মাধ্যমে এই সমস্যার কোনও সমাধান নেই বলেই জানিয়েছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব। কূটনীতি এবং আলোচনাই এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ বা শান্তির আশার আলো দেখাতে পারে বলে জানিয়েছেন আন্তোনিও গুতেরেস।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
