সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
সাম্প্রতিক অশান্ত অবস্থার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সোমবার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ করবেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ। ইউনুস সরকারের দূত হিসেবেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নবান্নতে দেখা করবেন তিনি। কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৈতৃক বাড়ি ভাঙাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন। কূটনৈতিক স্তরেও যাতে আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা যায় সে ব্যাপারে ভারত সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ’র সাক্ষাৎ তাৎপর্যপূর্ণ। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের হাইকমিশনার দিল্লি থেকে কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছেন। ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সীমান্ত বরাবর রাজ্যগুলির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক সীমারেখা রয়েছে ২০০০ কিলোমিটারের বেশি। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তা চুক্তিতেও অন্যতম ফ্যাক্টর পশ্চিমবঙ্গ তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাম্প্রতিক ইস্যুতে ভারত বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ইতিবাচক করে তুলতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে মধ্যস্থতা করার আহ্বান জানাতে পারেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার
এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে।
যদিও এই বৈঠকে মূলত কি বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে তা স্পষ্ট করেনি রাজ্য সরকার অথবা বাংলাদেশ হাইকমিশন। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুসম্পর্ক আন্তর্জাতিক মহলেও যথেষ্ট সুবিদিত। কিন্তু বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যেমন অবনতি হয়েছে তেমনি কিছুটা হলেও পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে ভাঙ্গন ধরেছে। বাংলাদেশে হিন্দু নিপীড়নের বিষয় যে বাসা প্রচারিত হচ্ছে তা সর্বাংশে সত্য নয়, ঠিক এই ধরনের বার্তা নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বাংলাদেশের হাইকমিশনার বলে বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক সমস্ত মেলবন্ধন যাতে সঠিকভাবে বয়ে চলে তার জন্যও বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানাতে পারেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার বলেও মনে করা হচ্ছে। ২০১৬ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন তৎকালীন বাংলাদেশ হাইকমিশনার মোয়াজ্জেম আলি। তবে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট আলাদা। সেই কারণে নবান্নে সোমবারের এই বৈঠক আলাদা মাত্রা এনে দিতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। যে বৈঠকে অবশ্যই নজর রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের।
