দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে ‘বিনোদন পার্ক’ মন্তব্য করে বিতর্কে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে সম্প্রতি এহেন মন্তব্য করেন তিনি। আর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাল শাসকদল তৃণমূল। কেন্দ্রীয়মন্ত্রীর এহেন মন্তব্য ধর্মবিদ্বেষী বলেও কটাক্ষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় শাসকদলের দাবি, ‘জগন্নাথ-ভক্তদের অপমানের জবাব শীঘ্রই পাবেন সুকান্তবাবু’।
বছর ঘুরলেই বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনের আগে সৈকত নগরী দিঘায় সুবিশাল জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এহেন মন্দির তৈরি নিয়ে প্রথমদিক থেকেই বিরোধিতার পথে হেঁটেছেন বঙ্গ বিজেপি নেতারা। মন্দির নয়, সেটি জগন্নাথ ধাম কালচারাল সেন্টার বলেও বারবার দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী কালচারাল সেন্টার বলার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
সম্প্রতি বাড়ি বাড়ি প্রসাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। দুয়ারে রেশন প্রকল্পের মাধ্যমে যেভাবে স্থানীয় মিষ্টির দোকানে তৈরি প্যারা, গজা দেওয়া হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলনেতা। ‘হিন্দু ধর্মের আঘাত’ বলেও মন্তব্য করা হয়েছে। এই বিষয়েই সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘মন্দির তো নয়, ওটা বিনোদন পার্ক’। আর এহেন মন্তব্যে চরম ক্ষুব্ধ শাসকদল তৃণমূল।
উক্ত চ্যানেলে দেওয়া বিজেপি নেতার সেই টেলিফোনিক প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে দলের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূলের দাবি, ‘বঙ্গ বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের কথাটা একবার শুনুন, দিঘার জগন্নাথধাম নাকি মন্দির নয়, বিনোদন পার্ক!’ রাজনীতির স্বার্থে হিন্দু ধর্মকে অপমান করতেও দু’বার ভাবেন না হিন্দুধর্মের এই ভণ্ড ধ্বজাধারী, বিজেপির মাতব্বর নেতা।’। শুধু তাই নয়, ধর্মবিদ্বেষী মন্তব্য বলেও তোপ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শাসকদলের আরও দাবি, জগন্নাথ ধামকে যেভাবে বিনোদন পার্ক বলা হয়েছে তা বাংলার অপমান। শুধু তাই নয়, ভক্তের ভক্তি, বাংলার সংস্কৃতি এবং জগন্নাথদের প্রতি মানুষের আস্থার অপমান বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জগন্নাথ-ভক্তদের অপমানের জবাব শীঘ্রই সুকান্তবাবু পাবেন বলেও তোপ তৃণমূলের।
