সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জে রবীন্দ্রনাথের পৈতৃক বাড়ি ভেঙে দেওয়ার ঘটনা নিছক আইন শৃঙ্খলার বিষয়, কোনও ধর্মীয় বিষয় নয়। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে এমনটাই জানিয়েছেন এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ। বাংলাদেশের হাইকমিশনার জানিয়েছেন, ‘কিছু কিছু জায়গায় আইন হাতে তুলে নিয়েছে স্থানীয় মানুষজন। সেই কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু এটার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনও অভিপ্রায় নেই।’ ঠিক এভাবেই রবীন্দ্রনাথের পৈতৃক বাড়ি ভাঙচুরের ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন বাংলাদেশ হাই কমিশনার বলে নবান্ন সূত্রে খবর। আগামী দিনে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সেই ব্যাপারেও কথা দিয়েছেন বাংলাদেশের হাইকমিশনের বলে সূত্রের খবর।
এদিন বৈঠকের শুরুতেই হাইকমিশনার জানান, দুই দেশের ভাষা এক, সংস্কৃতি এক এবং জীবজগৎ এক। তাহলে ভেদাভেদ কেন? বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তথা ভারতের সম্পর্ক সুদৃঢ় করার অভিপ্রায়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সোমবার নবান্নতে বৈঠক করেন নবনিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ। কূটনৈতিক দিক থেকেও পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ।এই রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে ২০০০ কিলোমিটারের উপর। সেই অর্থে কেন্দ্রীয় সরকারের বাংলাদেশের সঙ্গে বেশ কিছু ইস্যু নিয়ে পদক্ষেপ করার সময় পশ্চিমবঙ্গকে অবশ্যই সঙ্গে রাখা জরুরি। ফলে সোমবারের বৈঠকের ওপর কেন্দ্রীয় সরকারও নজর রেখেছে। জানা গেছে, দুই দেশের জীবজগতের মিল থাকায় একত্রিত হয়ে একটা ‘স্টাডি’ করা যায় কিনা তা নিয়ে প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশের হাই কমিশনার। মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসসহ বাংলাদেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৎকালীন বাংলাদেশের হাই কমিশনার মোয়াজ্জেম আলি বৈঠক করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান সময় সম্পূর্ণ আলাদা। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অশান্ত পরিবেশকে সামনে রেখে সতর্কবার্তাও রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের। বলে রাখা ভাল, এই প্রথম ভারতের কোনও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন বাংলাদেশের নবনিযুক্ত হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ।
বাংলাদেশ উপ হাই কমিশন থেকে জানানো হয়েছে, এ দিনের বৈঠক অত্যন্ত উষ্ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে চিরাচরিত সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান মূল্যবোধ কেন্দ্রিক আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে বলে বৈঠকে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সুর বাংলাদেশ হাই কমিশনারেরও। আগামীতে বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে তা নিয়েও আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
