সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
ফের “ম্যান মেড” বন্যার তত্ত্ব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিধানসভায় পরিবেশ সংক্রান্ত একটি আলোচনায় অংশ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,”রাজ্যে বারবার বন্যা হচ্ছে ‘ম্যানমেড’ কারণে।” তাঁর অভিযোগ, ” আমাদের রাজ্যে বেশিরভাগ হয় ম্যান মেড ফ্লাড। ডিভিসি না জানিয়ে জল ছেড়ে দিচ্ছে।
আমরা জানতাম জল ছাড়ার আগে রাজ্যকে জানানো হয়। কিন্তু এখন যে সরকার কেন্দ্রে এসেছে তারা এসব মানে না। তারা না জানিয়েই জল ছেড়ে দেয়।
আর বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ডুবে যায়। তারা একটি কথাও শোনে না, একটি কথাও মানে না। তারা বাংলাকে বন্যাত্রাণে এক পয়সাও দেয় না।” মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ,
“ডিভিসি কোনও ড্রেজিং করে না, পলিও সংস্কার করে না। যেখানে জল ধারণ ক্ষমতা ছিল পাঁচ লক্ষ মেট্রিক টন, সেখানে সেটা দাঁড়িয়েছে এক লক্ষ মেট্রিক টনে। ফলে বাকি চার লক্ষ মেট্রিক টন জল আমাদের রাজ্যে ছেড়ে দেয় আর বন্যায় ভাসিয়ে দেয়।”
মুখ্যমন্ত্রীর মতে, উত্তরবঙ্গে প্লাবনের মূলেও ভিনরাজ্যের সংকোশ-তিস্তা-তোর্সার জল। সিকিমে তৈরি চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র তিস্তার শ্বাসরোধ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। “আমরা বার বার বলেছি ইন্দো-ভুটান রিভার প্রজেক্টে বাংলার প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত, কিন্তু এরা বাংলার অংশীদারিত্ব পুরো বাদ দিয়ে দিয়েছে” মন্তব্য মমতার।
এদিন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ‘‘১৫ বছর ধরে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান পড়ে ছিল। আমরা ১৫০০ কোটির প্রকল্প শুরু করেছি। দু-তিন বছরের মধ্যে শেষ হবে।’’ মানুষের বসত উচ্ছেদ যাতে না হয়, সে কারণে প্রয়োজনে রুট ঘুরিয়ে দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। মমতা জানান, ‘‘সাড়ে চার লক্ষ পুকুর কেটেছি, আরও কাটতে হবে, তবে গভীর করতে হবে।’’ তাঁর বক্তব্য, কুড়ি বছর ড্রেজিং করেনি কেন্দ্র, করলে বন্যা রোখা যেত, কলকাতা বন্দরের পণ্য পরিবহন ক্ষমতা বাড়ত। ‘‘এই কারণে রাজ্যের ২ থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে,’’ বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
