সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
“জলাভূমি আমাদের ফুসফুস। কেউ জোর করে পুকুর ভরাট করলে আমি নিজে গিয়ে ভেঙে দেব।’’ মঙ্গলবার রাজ্য বিধানসভায় ভূগর্ভস্থ জলের দূষণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কেন্দ্রীয় আইন সংক্রান্ত আলোচনায় পরিবেশ বার্তা দিতে গিয়ে এমনটাই বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি পরিবেশ দফতর ও স্থানীয় প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘‘ফায়ার ব্রিগেড ঢুকতে পারে না, এমন ঘিঞ্জি বসতি চলবে না।’’ ভূগর্ভস্থ জলের দূষণ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের সংশোধিত আইন রাজ্যে চালু হবে কিনা তা নিয়ে এদিন বিধানসভায় একটি রেজোলিউশন আনেন রাজ্যের পরিবেশ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সেই সংক্রান্ত আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ডাইরেকশন তারা (কেন্দ্র) দিতেই পারে, কিন্তু রুল ফ্রেম আমরাই করব।” একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, “বিহারে, দিল্লিতে দূষণের মাত্রা কত? আর কলকাতায় দূষণের মাত্রা কত?” জানান, ‘গ্লোবাল ক্রাইসিস চলছে, আর পরিবেশকে ধ্বংস করাও চলছে।’
মূলত পরিবেশ দূষণ ও পরিবেশকে বাঁচাতে বনসৃজন ও ম্যানগ্রোভ রক্ষায় রাজ্যের সাফল্যের কথা এই আলোচনায় তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, রাজ্যে ৫ লক্ষ বিঘা জমিতে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। বনাঞ্চল বেড়েছে ৪ হাজার কিমি। সুন্দরবনে লাগানো হয়েছে ২০ কোটিরও বেশি ম্যানগ্রোভ। ‘‘ম্যানগ্রোভ আমাদের ঢাল, ওদের বাঁচাতে হবে,’’ বলেন মমতা।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘‘ল্যান্ড ইউজ পলিসিও করা হচ্ছে যাতে জলাশয়-খোলামাঠ রক্ষা পায়।’’ নিজের বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মেধা দিয়ে শুধু উন্নয়ন নয়, পরিবেশও রক্ষা করতে হবে। “পৃথিবী একটাই, ভারসাম্য না রাখতে পারলে, ধ্বংস অনিবার্য’’ মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর। পরিবেশ রক্ষায় সকলকে সঙ্ঘবদ্ধ হওয়ার আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশ্ব পরিবেশ রক্ষার প্রসঙ্গে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আনেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, ” সারা পৃথিবী জুড়ে যে যুদ্ধ লেগেছে, তার আঁচ তো লাগবেই সারা পৃথিবী জুড়ে। দূষণ ছড়াবে সারা পৃথিবীতেই।” সেই কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব সকলকে নিতে হবে বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। ভারত সরকারের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী আবেদন, “দেশের পররাষ্ট্র নীতি দেশের সরকারই ঠিক করবে। কিন্তু আমি শুধু অনুরোধ করছি,
কূটনৈতিকভাবে আমাদের এমন কোনও পদক্ষেপ করা উচিৎ যাতে এই যুদ্ধ থেমে যায়। এই পৃথিবী একটাই দেশ।শুধু কথা আলাদা, ভাষা আলাদা। পৃথিবীতে শান্তি বজায় থাকুক, দূষণমুক্ত হোক এই পৃথিবী।”
