কেটে গিয়েছে ১০ দিন। এখনও কেরলের তিরুঅনন্তপুরম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঠায় দাঁড়িয়ে F-35B Lightning II যুদ্ধবিমানটি। ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এটি। শুধু তাই নয়, বিশ্বের সব থেকে দামী যুদ্ধবিমানগুলির মধ্যেও এটি অন্যতম। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, স্টিলথ যুদ্ধবিমানটির দাম ১১০ মিলিয়ন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১১ কোটি টাকারও বেশি। আর সেই বিমানটি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন কৌতূহলী জনতা।
তিরুঅনন্তপুরম এয়ারপোর্টের বে ৪-এ দাঁড়িয়ে থাকা বিমানটিকে নিরাপত্তা দিচ্ছে ‘সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স’। প্রাথমিক ভাবে জ্বালানি কম থাকার কারণে বিমানটি জরুরি অবতরণ করাতে হয় কেরলে। পরে দেখা যায় এতে হাইড্রোলিক সিস্টেমে সমস্যা। ব্রিটিশ টিমও বিমান ওড়ানোর চেষ্টা করছে বার বার, কিন্তু ব্যর্থ হচ্ছে। তাই আপাতত ঠাঁই হয়েছে ভারতের মাটিতেই। বর্ষা থেকে বাঁচতে ভারত বিমানটিকে একটি হ্যাঙ্গারে রাখার কথা বলেছিল, কিন্তু রয়্যাল নেভি তাতে রাজি হয়নি।
কেন এতদিন ধরে নড়ল না ব্রিটেনের F-35B?
এইচ এম এস প্রিন্স অফ ওয়েলস কেরিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের অংশ ছিল এই বিমান। কেরলের উপকূল থেকে ১০০ ন্যটিক্যাল মাইল দূরে দাঁড়িয়ে আছে এই বিমান। কোনও ব্রিটিশ এয়াক্রাফট কেরিয়ার থেকে উড়েছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। ভারত মহাসাগরে চলছিল এক যৌথ মহড়া।
আচমকা খারাপ আবহাওয়ার মাঝে SQUAWK 7700 কোড ধরা পড়ে রাডারে। সাধারণত এয়াক্রাফটে কোনও সমস্যা হলেই এই কোড দেওয়া হয়। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য করে। পরে দেখা যায় এয়ারক্রাফটের সমস্যা আরও জটিল।
জানা যাচ্ছে, আবহাওয়া খারাপ ছিল, সেই সঙ্গে জ্বালানিও ফুরিয়ে এসেছিল। সেই কারণে জরুরি অবতরণ করাতে হয়। ভারতীয় বায়ুসেনার মুখপাত্র জানিয়েছেন, F-35 বিমানটিকে যথাযথ সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে। অবতরণের পরই ভারতীয় বায়ুসেনার তরফ থেকে সব সাহায্য করা হয়েছে। জ্বালানি ভরার ব্য়বস্থাও হয়। কিন্তু হাইড্রলিক ফেলিওরের কারণে উড়তে পারেনি এয়াক্রাফটটি।
যে কোনও এয়াক্রাফটের জন্য হাইড্রলিক খুব গুরুত্বপূর্ণ। ল্যান্ডিং গিয়ার থেকে শুরু করে ব্রেক সবটাই নির্ভর করে এই হাইড্রলিকের উপর। তাই কোনওভাবেই ব্রিটিশ এয়াক্রাফটটিকে ওড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। যদি ভারতের মাটিতে সারানো সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে এয়ারলিফট করে F-35 জেটকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে ব্রিটিশ এয়াক্রাফট কেরিয়ারে।
