মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত দুই দিনের ‘অ্যানুয়াল এস্টিমেটস কমিটি কনক্লেভ’-এ অংশগ্রহণকারী সদস্যদের খাওয়ানো হয়েছে রূপোর থালায়। আর এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে মহারাষ্ট্রে। কংগ্রেসের বিধানসভা দলনেতা বিজয় ওয়াদেত্তিওয়ার অভিযোগ করেছেন, একদিকে রাজ্যের আর্থিক অবস্থা ভীষণ খারাপ, অন্যদিকে রূপোর থালায় ৫০০০ টাকা খরচ করে খাবার পরিবেশন করা মানে গরিব মানুষের অপমান।
নাগপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজয় ওয়াদেত্তিওয়ার বলেন, “যখন কৃষকদের ঋণ মুকুব হচ্ছে না, আদিবাসী, সমাজকল্যাণ ও অঙ্গনওয়াড়ি প্রকল্পগুলোর বাজেট কাটা পড়ছে, তখন এত টাকা খরচ করে রূপোর থালায় খাবার পরিবেশন সরকারের কোন অগ্রাধিকারের পরিচয় দেয়?” রাজ্যের বহু কৃষক এখনও পর্যন্ত ফসল ঋণ পাননি। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের পারিশ্রমিক সময়মতো দেওয়া হচ্ছে না। ‘সঞ্জয় গান্ধি নিরাধার যোজনা’র মতো প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ আটকে আছে। আর তখনই সরকারের তরফ থেকে এই ধরনের আয়োজন সত্যি প্রশ্ন তোলে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি হর্ষবর্ধন সাপকালও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর প্রশ্ন, “৫৫০ টাকার রূপোর থালায় ৫০০০ টাকার ভোজ। ধুলে জেলার এক সরকারি অতিথিশালায় এস্টিমেটস কমিটির সফরের আগে উদ্ধার হওয়া টাকাই কি অর্থের অংশ?” তিনি আরও বলেন, “চাষির ঋণ মুকুব, দরিদ্র বোনের ২১০০ টাকার প্রাপ্য টাকা নেই সরকারের হাতে, অথচ রাজকীয় ভোজে কোনও ঘাটতি নেই।”
এখানেই শেষ নয়। পুনেতে এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এক মহিলাকে হেনস্তার অভিযোগ তুলে বিজয় ওয়াদেত্তিওয়ার প্রশ্ন তোলেন “যখন মহিলা পুলিশও সুরক্ষিত নয়, তখন সাধারণ নারীরা কতটা নিরাপদ? মুখ্যমন্ত্রী নিজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দায়িত্বে। এই অবস্থায় মহিলারা কি ন্যায়বিচার পাবেন?” তিনি মহারাষ্ট্র শক্তিপীঠ এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প নিয়েও আপত্তি তোলেন। সেখানে কৃষকদের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “যদি মন্ত্রীরা প্রকল্পের বিরোধী হন, তাহলে তাঁরা সরকার ছেড়ে দিন। শুধু লোক দেখানো আপত্তি দিয়ে ক্ষমতায় থাকা মুখোশ পরা ছাড়া আর কিছু নয়।”
মহারাষ্ট্র শক্তিপীঠ এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে বিদর্ভের ওয়ার্ধা থেকে শুরু করে সিন্ধুদুর্গ পর্যন্ত ৮০২ কিলোমিটার দীর্ঘ রোড তৈরি হবে। বিজয় ওয়াদেত্তিওয়ারার অভিযোগ, “গরিবের জন্য টাকা নেই, অথচ রাজনৈতিক উচ্চপদস্থদের জন্য ব্যয় করতে সরকার কুণ্ঠাবোধ করে না। এটা দ্বিচারিতা ছাড়া কিছু নয়।”
এদিকে কংগ্রেসের শরিক দল শিবসেনা রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউতও রাজ্যের দুর্নীতি নিয়ে সরব হন। তাঁর কটাক্ষ, “মহারাষ্ট্রে এখন যে দুর্নীতি চলছে, সেটা বিশ্বের যেকোনও কেলেঙ্কারির থেকে বড়।” মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এখনএই রূপোর থালার ভোজ পরিবেশন নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। উঠছে শাসকের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন।
