ঠিক দশ মাস আগে অভয়াকাণ্ডের প্রতিবাদের ছবি ফিরল কলকাতার রাজপথে। কসবায় ল’ কলেজে ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে গর্জে উঠল কলকাতা। শনিবার দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে গড়িয়াহাটে প্রতিবাদে পথে নামে বিজেপি। বিজেপির বিক্ষোভে তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশে পুলিশে ছয়ালাপ ছিল গোটা চত্বর। শেষে গ্রেফতার করা হয় সুকান্তকে। তিনি-সহ বাকি বিজেপি কর্মীদেরও টেনে হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলে পুলিশ।
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে ফের পুলিশি বাধার অভিযোগ পুলিশের। ব্যারিকেড দিয়ে বিজেপির মিছিল শুরুর আগেই আটকায় পুলিশ। পুলিশের সঙ্গে একপ্রস্থ ধস্তাধস্তিও হয় বিজেপি কর্মীদের। সুকান্ত মজুমদার বলেন, “গণতন্ত্র ধ্বংস করা হচ্ছে। আমি দলের প্রেসিডেন্ট। গ্রেফতার হতেই পারি। কিন্তু বাচ্চা মেয়েটির কথা ভাবুন। শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে অস্বীকার করায় ধর্ষণ করেছে। কী দূর্বিষহ অবস্থা ছিল ভাবুন! এরা মানুষ না পশু? তৃণমূল কংগ্রেসের পোষা পশু এরা। এদের মাথার উপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়দের হাত রয়েছে।”
পুলিশকেও আক্রমণ সুকান্তর। পুলিশের আচরণ চরম নিন্দনীয় বলে কটাক্ষ বিজেপির রাজ্য সভাপতির। প্রিজন ভ্যানে করে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয় সুকান্তদের। তিনি বলেন, “এক মাসে তিনবার গ্রেফতার করা হল। পুলিশের আচরণ গণতন্ত্রের হত্যাকারীর আচরণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই রাজ্যকে জিনপিংয়ের চিন ও কিমের উত্তর কোরিয়াতে পরিণত করেছেন। হাজারবার হলেও গ্রেফতার হব কিন্তু বাংলার মেয়েদের ধর্ষণ বন্ধ হওয়া চাই।”
বিজেপির মহিলা কর্মীদেরও আটক করে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। আটক করা হয় রাজ্য বিজেপি মহিলা মোর্চার সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্রকেও। বাংলার মেয়েরা সুরক্ষিত নয় বলে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। বিক্ষোভের জেরে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে গড়িয়াহাট চত্বর।
