ছ’বছর আগের ধর্ষণের মামলা ধামাচাপা দিতে পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ। তবে টাকা নয়। ঘুষ হিসেবে ৬টি শিঙাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে। উত্তরপ্রদেশের এটাহ জেলার ঘটনা। নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের দাবি, আদালতে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়ার আগে ধর্ষণে অভিযুক্তের কাছ থেকে শিঙাড়া ঘুষ নিয়েছিলেন ওই পুলিশ আধিকারিক।
২০১৯ সালের ১ এপ্রিলের ঘটনা। বছর চোদ্দোর এক নাবালিকা দুপুর ১টা নাগাদ স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল। ওই গ্রামেরই বাসিন্দা শিঙাড়া বিক্রেতা বীরেশ নামে এক ব্যক্তি তখন ওই নাবালিকার পিছু নেয় বলে অভিযোগ। এরপর জোর করে নাবালিকাকে রাস্তার পাশের গম ক্ষেতে নিয়ে যায় অভিযুক্ত। সেখানেই নাবালিকাকে সে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। নাবালিকা চিৎকার করলে ছুটে আসেন আরও দুই ব্যক্তি। নাবালিকাকে গালিগালাজ করে ও খুনের হুমকি দিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।
ঘটনায় প্রথম থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের। এমনকি পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নিতেও অস্বীকার করে বলে দাবি। এরপর আদালতের দ্বারস্থ হন নির্যাতিতার বাবা। আদালতের নির্দেশে পকসো আইনে মামলা রুজু হয়। ঘটনার ৫ বছর পর গত ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করে পুলিশ। সেখানে ধর্ষণের কোনও প্রমাণ মেলেনি বলে উল্লেখ করা হয়। গত ২৭ জুন পাল্টা পিটিশন দায়ের করেন নির্যাতিতার বাবাও।
পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন নির্যাতিতা নাবালিকার বাবা। পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ডই করেনি বলে অভিযোগ। অথচ নির্যাতিতা নিজেই বয়ানে জানিয়েছে ধর্ষণের কথা। প্রথম থেকেই তদন্তে পুলিশ উদাসীন থেকেছে বলে অভিযোগ নাবালিকার বাবার। এখানেই শেষ নয়, নাবালিকার বাবার আরও দাবি, মিথ্যে রিপোর্ট পেশ করার জন্য অভিযুক্ত বীরেশের শিঙাড়ার দোকান থেকে ৬টি শিঙাড়া ঘুষ হিসেবে নিয়েছিলেন তদন্তকারী পুলিশ অফিসার। সেইমতো চূড়ান্ত রিপোর্টে পুলিশ নির্যাতিতাকেই দোষী প্রমাণ করতে চেয়েছিল। কেবল শিঙাড়া কেনা থেকে দু’পক্ষের বচসা হয়েছিল বলে দাবি করে পুলিশ। যদিও নির্যাতিতার বাবার পাল্টা পিটিশনের পর পুলিশের সেই রিপোর্ট খারিজ করে দিয়েছে আদালত। পরবর্তী ধাপে কীভাবে এগোবে তদন্ত, তাও সরাসরি আদালতের নজরদারিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
