সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
টালিগঞ্জের স্টুডিও পাড়ায় কলাকুশলীদের সংগঠন ফেডারেশনের সঙ্গে পরিচালক, প্রযোজক এবং অভিনেতাদের দ্বন্দ্ব মেটাতে হবে রাজ্য সরকারকেই। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের আবেদন খারিজ করে দিয়ে এমনটাই জানিয়ে দিল বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ বেঞ্চ। মূলত বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চের নির্দেশকে বহাল রেখে এই মামলা সিঙ্গল বেঞ্চেই ফিরিয়ে দিল ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী ৯ জুলাই বিচারপতি সিনহার বেঞ্চে ফের এই মামলার শুনানি। সেখানে টলিউডের স্টুডিও পাড়ার পরিস্থিতি নিয়ে জবাবদিহি করতে হবে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরকে।
বস্তুত, দীর্ঘদিন ধরে টলিউডের স্টুডিও পাড়ায় এই অশান্তি চলছে। গত বছরের জুলাইয়ে এই সংঘাত অচলাবস্থার রূপ নেয়। বেশ কিছুদিন শুটিং বন্ধ থাকে। অভিনেতা পরিচালকদের একাংশের অভিযোগ, ফেডারেশন যা খুশি তাই একতরফা ভাবে চাপিয়ে দিচ্ছে। কতজন নিয়ে শুটিং করতে হবে, কী ক্যামেরা ব্যবহার করতে হবে, কোথায় কতক্ষণ শুটিং করতে হবে, আউটডোরে কতজন নিয়ে যেতে হবে, এই রকম যাবতীয় বিষয়ে তারা অযাচিতের মতো নাক গলায়। কথা না শুনলে পরিচালক, প্রযোজকদের কাজ বয়কট করা হয়। ক্ষতি হয় শুটিংয়ের। আর এই কারণে বাইরের কোনও প্রযোজক বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বিনিয়োগও করছেন না। এই সব নিয়মের বিরুদ্ধেই পথে নেমে অথবা সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রতিবাদ করেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়রা। অচলাবস্থা কাটাতে অভিনেতা সাংসদ দেব, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং গৌতম ঘোষরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হন। রাজ্য সরকার এই তিনজনকে রেখে একটি কমিটিও গড়ে দেয়। কথা ছিল তিন মাসের মধ্যে কমিটি এই সমস্যার সমাধানে একটি রিপোর্ট দেবে। কিন্তু অভিযোগ, সেই কাজও শেষ পর্যন্ত আর হয়নি। ফলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর বিদুলা ভট্টাচার্য।পরে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে অভিনেতা পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী, সুদেষ্ণা রায়, সুব্রত সেনরা ফেডারেশনের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন। বিচারপতি অমৃতা সিনহার সিঙ্গল বেঞ্চ নির্দেশ দেয় টলিপাড়ার এই অচলাবস্থা কাটাতে হবে রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরকেই। যদিও এই অচলাবস্থা কাটানোর দায়িত্ব নিতে নারাজ রাজ্য সরকার। সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ডিভিশন বেঞ্চে এই নির্দেশ খারিজের আবেদন জানায় রাজ্য। সরকারের বক্তব্য, টলিপাড়ার এই ঘটনার ক্ষেত্রে সরকারের কোন যোগ বা ভূমিকা নেই। তাই এই মামলা থেকে অব্যাহতি চায় রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। যদিও রাজ্যের সেই আবেদন খারিজ করে এই অচলাবস্থা কাটানোর দায়িত্ব রাজ্য সরকারকেই নিতে হবে বলে প্রকারান্তরে সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে বহাল রেখে রাজ্যের আপত্তি খারিজ করল ডিভিশন বেঞ্চ।
