করোনা অতিমারির পর থেকেই বেড়েছে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা। কাজের মধ্যেই হঠাৎ করে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হচ্ছে বহু মানুষের। এই তালিকায় সেলেব দুনিয়ার বহু মানুষও আছেন। এর মধ্যেই কর্নাটকে গত ৪৪ দিনে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে, শুধুমাত্র হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই। যা রীতিমত আতঙ্ক তৈরি করেছে জনমানসে। কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দিরামাইয়া দাবি করেছেন, তাড়াহুড়ো করে করোনা ভ্যাকসিনকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সেই ভ্যাকসিনেশন এ হেন মৃত্যুর কারণ হতে পারে!
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি, বিশ্বজুড়ে অনেক গবেষণা হৃদরোগে মৃত্যুর কারণ হিসাবে করোনা ভ্যাকসিনকে দায়ী করেছে। আর এহেন দাবি জনমানসে রীতিমত আতঙ্ক তৈরি করেছে। আর এরপরেই এই বিষয়ে মুখ খুলল সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া। কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন এই সংস্থার তৈরি। এক্স মাধ্যমে সেরাম ইনস্টিটিউটের দাবি, ‘কোভিড ১৯ ভ্যাকসিন সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং সুরক্ষিত’। এমনকী ‘বিজ্ঞান সম্মত’ বলেও এক্সে উল্লেখ সংস্থার।
শুধু তাই নয়, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ অর্থাৎ আরসিএমআর এবং ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (এনসিডিসি) এর তরফেও এই বিষয়ে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে। যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, কোভিড-১৯ টিকা এবং দেশে অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর পিছনে কোনও যোগ পাওয়া যায়নি। আইসিএমআরের স্পষ্ট দাবি, ভারতে দেওয়া করোনার টিকা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং কার্যকরী। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঘটনা খুবই কম বলেও উল্লেখ আইসিএমআরের। তবে আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কারণ হিসাবে জেনেটিক্স এবং লাইফস্টাইলকেই দায়ী করা হয়েছে আইসিএমআর এবং এনসিডিসির রিপোর্টে। এমনকী শরীরে থাকা কোনও অসুস্থতাও এর কারণ হতে পারে বলে উল্লেখ। সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া’র টুইটে আইসিএমআর এবং এইমসের সমীক্ষার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। আর তা তুলে ধরে সংস্থার স্পষ্ট, হঠাৎ হৃদরোগে মৃত্যুর সঙ্গে করোনার টিকার কোনও যোগ নেই।
এই প্রসঙ্গে এমসের এই চিকিৎসক এস নারাং সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হাসানের মৃত্যুর কারণ কোভিড টিকা নয়। তাঁর কথায়, করোনার টিকা নিলে হঠাৎ মৃত্যুর প্রবণতা কমে যাবে। ওই চিকিৎসকের কথায়, করোনার ভ্যাকসিন যদি নিয়ে থাকেন কোনও ব্যক্তি, সেক্ষেত্রে তাঁর হার্ট অনেক বেশি সুরক্ষিত। শুধুমাত্র আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে বলেও দাবি এমসের চিকিৎসকের।
