১২ বছরে ভুল করেও একদিনের জন্য কাজে আসেননি। বাড়িতে বসে দিব্যি গুনছিলেন মাসোহারা! মধ্যপ্রদেশ পুলিশের কনস্টেবলের কাণ্ড দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! একদিনও ডিউটিতে না গিয়েও টানা ১২ বছর ধরে সরকারের কাছ থেকে বেতন নিচ্ছিলেন! প্রশাসনিক নজরদারির মারাত্মক গাফিলতির সুযোগে কারণে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমেছে প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা, বেতন হিসাবে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো চাঞ্চল্য।
ডবল ইঞ্জিন মধ্য প্রদেশে পুলিশ কনস্টেবলের এ হেন কাণ্ড প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কনস্টেবলকে ভোপালে পোস্টিং দেওয়া হয় এবং সাগরে প্রাথমিক প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রশিক্ষণে না গিয়ে চুপচাপ নিজের বাড়ি বিদিশায় ফিরে যান ওই পুলিশ কনস্টেবল। প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন তাঁর অনুপস্থিতি কারও নজরে পড়েনি। অফিসিয়াল রেকর্ডে তাঁর নাম সক্রিয় ছিল, তাই নিয়মিতভাবে তাঁর বেতন ব্যাঙ্কে জমা হতে থাকে।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
এই প্রতারণার ঘটনা প্রথম সামনে আসে ২০২৩ সালে। একটি রুটিন বেতন স্কেল সংশোধনের সময় সার্ভিস রেকর্ডে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে তদন্তে জানা যায়, ওই পুলিশ কনস্টেবল ১২ বছর ধরে একদিনও কাজে যোগ দেননি। কনস্টেবল দাবি করেন, এই সময় তিনি মানসিক সমস্যার কারণে চিকিৎসাধীন ছিলেন। একটা সময় তাঁকে নেহরু নগর পুলিশ লাইনে সাময়িক ভাবে পোস্টিং দেওয়া হলেও, প্রাথমিক তদন্তের পর তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়। আর এই ঘটনা সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ নজরদারি ও কর্মী ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা নিয়ে।
১০ মাস ধরে সহকারী কমিশনার অঙ্কিতা খাতরকরের নেতৃত্বে বিভাগীয় তদন্ত চলছে ওই কনস্টেবলের এই কাণ্ড নিয়ে। ডেপুটি কমিশনার শ্রদ্ধা তিওয়ারি জানিয়েছেন, শুধুমাত্র অভিযুক্ত কনস্টেবলই নয়, যারা এই গাফিলতির জন্য দায়ী, তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টিকে গুরুতর প্রশাসনিক ব্যর্থতা বলে দাবি করেন তিনি। তদন্তের পর দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ডেপুটি কমিশনার শ্রদ্ধা তিওয়ারি।
