দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন কেজরিওয়ালকে ‘শিশমহল’ নিয়ে দিনরাত আক্রমণ শানাত বিজেপি। আর এবার বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার রাজকীয় বাসভবন নিয়ে তুঙ্গে সমালোচনা। নিজের সরকারি বাসভবনের জন্য প্রথম ধাপে ৬০ লক্ষ টাকার সংস্কার কাজের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন রেখা। তবে টেন্ডার খোলার তিন দিনের মধ্যে আপাতত সেই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হল। প্রশাসনিক কিছু জটিলতার কারণেই নাকি বন্ধ করা হয়েছে কাজ। বুধবার এই মর্মে নোটিস জারি করেছে দিল্লির পূর্ত দফতর।
যদিও রাজনীতির চর্চা সেখানেই থামেনি। দিল্লির রাজ নিবাস মার্গে অবস্থিত ওই বাংলোর উন্নয়নে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ের হিসেব দেখানো হয়। যেখানে ৯ লক্ষ চাকার ৫টি টিভি ও ৮ লক্ষ টাকার ১৪টি এসি লাগানোর কথাও ছিল। শুধু আলোকসজ্জা বাবদ ব্যয় ৬ লক্ষ টাকা দেখানো হয়। গত ২৮ জুন সেই টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়, বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের আধুনিকীকরণের প্রয়োজন রয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সংস্কার কাজ ৬০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
গত ফেব্রুয়ারিতে দিল্লিতে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয় বিজেপি। প্রথমবার বিধায়ক হয়েই মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন রেখা গুপ্তা। তবে সরকারি বাসভবন পাওয়ার জন্য একশো দিনেরও বেশি অপেক্ষা করতে হয়েছে তাঁকে। কেজরিওয়াল যে বাংলোয় থাকতেন, তা নিতে নারাজ রেখা। কারণ, ওই বাংলোকেই ‘শিশমহল’ নাম দিয়ে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ তুলে এসেছে বিজেপি। বিতর্কিত বাসভবনে থাকতে না চাওয়ায় ওই এলাকাতেই নতুন বাসভবন দেওয়া হয় রেখা গুপ্তাকে।
কেজরির ‘শিশমহল’-কে মিউজিয়ামে পরিণত করা হবে বলে আগেই ঘোষণা করেছিলেন রেখা। তবে এবার তিনি নিজেই বিতর্কে। রেখার বাসভবনের সংস্কারে ৬০ লক্ষ টাকা বরাত নিয়ে পাল্টা নিশানা করেছে আম আদমি পার্টি। আপের দাবি, “যেখানে দিল্লির সাধারণ মানুষ বেসরকারি স্কুলের মাইনে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, জল সংকট, মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব ও বাড়তে থাকা অপরাধের সমস্যা নিয়ে অতিষ্ঠ, সেখানে কোটি কোটি টাকা খরচ করে নিজের জন্য মায়ামহল বানাচ্ছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।”
