বিহারের রাজনীতিতে বরাবরই চর্চার কেন্দ্রে থাকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আরজেডি প্রধান লালুর পরিবার। দুর্নীতি হোক বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক সম্প্রতি লালু পরিবার প্রতিনিয়ত খবরের শিরোনামে থেকেছে। আর এখন তো সব থেকে বড় আলোচনার বিষয় লালুপ্রসাদ যাদব ও রাবড়ি দেবীর জেষ্ঠ্য পুত্র তেজপ্রতাপ যাদব। বিয়ে-সম্পর্ক, রাজনীতি নানা বিষয় নিয়ে তিনি নিজের পরিবার এবং দলে কোনঠাসা। অবশ্য একে কোনঠাসা না বলে বহিষ্কৃত বলাই ভালো।
যাদব পরিবার সূত্রের খবর, দলীয় শৃঙ্খলা এবং পারিবারিক অনুশাসন না মানায় তেজপ্রতাপকে ৬ বছরের জন্য আরজেডি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বার করে দেওয়া হয়েছে বাড়ি থেকেও। লালুপুত্র তেজপ্রতাপ ফের উঠে এসেছেন খবরের শিরোনামে। পরিবার-দল তাকে তাড়িয়েছে কিন্তু তাতে কি? রাজনীতির ময়দান ছাড়তে তিনি রাজি নন। সেই প্রমাণই তিনি দিলেন মহুয়ায় অনুগামীদের নিয়ে একটি মিছিল করে।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
শুক্রবার সকালেই নিজের বিধানসভা কেন্দ্র, বিহারের মহুয়ায় অনুগামীদের নিয়ে একটি বিশাল মিছিল করেন তেজপ্রতাপ। লক্ষণীয় বিষয় হল, এই মিছিলে তেজপ্রতাপের অনুগামীদের হাতে থাকা পতাকা। সবুজ-সাদা রঙের পতাকার উপরে লেখা ‘টিম তেজপ্রতাপ যাদব’। মিছিল থেকে তেজপ্রতাপ বলেন, “মানুষের ইচ্ছাতেই আমি এখনও বেঁচে। মানুষ যা চান, আমি তা-ই করব।
মানুষ যেখান থেকে চাইবেন, সেখান থেকে ভোটে লড়ব।’ লালুপুত্র ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছেন নতুন দল গড়ে ভোটে লড়তে চান। আসলে লালুর দল এবং পরিবারে বরাবরই ছোট ছেলে তেজস্বী যাদবের গুরুত্ব বেশি। যে কারণে একসময় তেজস্বীর সঙ্গে দলের ‘দখল’ নিয়ে দ্বন্দ্বও শুরু হয় তেজপ্রতাপের। শেষে তেজস্বীর সঙ্গে পেরে না উঠে তেজপ্রতাপ মূল সংগঠন থেকে দূরে সরে যান। তবে দলে কমবেশি প্রভাব ছিল তেজপ্রতাপেরও। কিন্তু বাবা পাশে না থাকলে কী পারবেন তেজপ্রতাপ জায়গা করতে?
