সাময়িক স্বস্তি নিমিশার। ইয়েমেনে পিছিয়ে গেল কেরলের বাসিন্দা নিমিশা প্রিয়ার ফাঁসি। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, পূর্বনির্ধারিত ১৬ জুলাই তাঁর ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে না। ভারত বিদেশ মন্ত্রক সূত্র জানিয়েছে, ইয়েমেনের ‘ব্লাড মানি’ প্রথা মেনে ৮ কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে মৃতের পরিবারকে। সেই প্রস্তাব ভাবনা চিন্তার পর্যায়ে থাকায় তাকে আপাতত স্থগিত এই ফাঁসি।
ভারতের অন্যতম প্রধান সুন্নি নেতা কাঁথাপুরম এপি আবুবকর মুসলিয়ার আজ ইয়েমেনে পৌঁছেছেন। তিনি এবং নিমিশার মা, প্রেমকুমারী মৃত তালালের মেয়ে এবং পরিবারের সাথে দেখা করেন। নিমিশার তরফে দেওয়া ব্লাড মানির প্রস্তাবটি গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করেন। মৃতের পরিবার তরফে ভেবে দেখার আশ্বাস পাওয়ার পর ফাঁসি পিছিয়ে যাওয়ার খবর আসে।
উল্লেখ্য, কেরলের পালাক্কড় জেলার বাসিন্দা নিমিশা প্রিয়া ২০০৮ সাল থেকে ইয়েমেনের এক হাসপাতালে কাজ করতেন। ২০১৪ সালে তাঁর স্বামী ও কন্যা ভারতে ফিরে এলেও নিমিশা সেখানে থেকে যান। ব্যবসার অংশীদারকে হত্যার অপরাধে ২০১৮ সালে তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয় ইয়েমেনের আদালত। এরপর থেকেই তাঁকে বাঁচাতে উদ্যোগ নেন ভারতে নিমিশার পরিবার।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
ভারতে নিমিশাকে বাঁচাতে ‘সেভ নিমিশা অ্যাকশন কাউন্সিল’ গঠন করা হয়। গত সোমবার নিমিশা রক্ষা মামলায় দেশের শীর্ষ আদালতে বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে শুনানি হয়। শুনানির সময় অ্যাডভোকেট রাঘেন্থ বসন্ত বলেন, নিমিশার পরিবারের তরফে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ‘ব্লাড মানি’-র প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এই মুহূর্তে এই ফাঁসি রদের ব্যবস্থা করুক ভারত সরকার।
জানা গেছে, কেন্দ্র সম্ভাব্য সমস্ত রকম দিক খতিয়ে দেখছে। পাশাপাশি ভারতীয় আধিকারিকরা নিয়মিত ইয়েমেনের রাজধানী সানার স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। নিমিশার আত্মীয়দের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী দলও যাতে নিয়মিত আলোচনা চালাতে পারে সেই ব্যাপারে সব রকম সাহায্য করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
